আত্মহত্যার প্রলোচনার মামলা নিয়েছে পুলিশ, পরিবার বলছে ‘হত্যা’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে ১৭ বছর বয়সী এক গৃহবধু মারা গেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্রলোচনার মামলা হলেও নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলছে ‘হত্যাকাণ্ড’।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে কোর্টে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় মামলা নং ২৯(১১)২২ইং। ধারা ৩০৬ পেনেল কোড-১৮৬০।

নিহতের পিতা কাঞ্চন মিয়া জানান, আমার মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে ৭ মাস পূর্বে কল্যান্দি শুক্কুর আলীর ছেলে মামুনের সাথে প্রেম করে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই আমার জামাতা মামুন আমার মেয়েকে অকারণে মারধর করতো। আমার স্ত্রী পারভিন বেগম বিদেশে থাকায় মামুন প্রায় সময়ই আমার মেয়ে মরিয়মকে টাকা এনে দেবার জন্য চাপ প্রয়োগ করতো। আমার মেয়ে মরিয়ম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অমানসিক নির্যাতন করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১নভেম্বর রাতে আমার জামাতা মামুন পূণরায় আমার মেয়ে মরিয়মকে টাকা এনে দেয়ার জন্য অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। একপর্যায়ে আমার মেয়েকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। এমনকি আমার মেয়ের গায়ে স্টোভ চুলার কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। আমি আমার মেয়ের মোবাইল বন্ধ পেলে আমার ছেলে আল আমিনের মাধ্যমে জানতে পেরে বন্দরের রাজবাড়ী আমার মেয়ের বাড়িতে ছুটে যাই। তখন জানতে পারি আমার মেয়ে মরিয়ম আগুনে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরের দিন ভোরে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে গেলে আমার মেয়ে মরিয়মের মৃত নিথর দেহ দেখতে পাই। আমি এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করেন। তবে আমি নিশ্চিৎ আমার মেয়েকে আমার ঘাতক জামাতা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যা মামলা নেয়া হউক।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাহিদ মাসুম বলেন, গৃহবধু মরিয়ম গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহননের সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্ত করে লাশ স্বজনদেও কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। স্বামী মামুনকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা নিয়ে কোর্টে পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।