আমরা প্যালেস্টাইনের যুবকদের মত বড় হয়েছি: শামীম ওসমান

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘অনেকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ডেফিনিশন দেন। মাথায় আস্তে আস্তে রক্ত উঠছে। যেদিন ফাইনাল রক্ত উঠে যাবে সেদিন কেউ থাকবে না মাঠে৷ যখন একটা মহিলার বাবা মা পুরে পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি যখন সেখানে পৌঁছে নামাজ পড়তে চাইল তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সমস্ত গণতন্ত্রের চর্চা আমাদেরই করতে হবে। আমার ওপর বোমা হামলার পর আহত অবস্থায় একটা কথাই বলেছিলাম শেখ হাসিনাকে বাঁচান। তখন বলা হয়েছিল শেখ হাসিনার পরিবারের আইন পাস করার জন্য নারায়ণগঞ্জে আমরা এই বোমা হামলা করেছিলাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা শিল্পকলা সম্মাননা পদক ২০২১ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ নারায়ণগঞ্জ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনের পুরোধা ছিল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু। তারপর ১৯৬৬, ৬৯ সালের আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনের প্রভাব ছিল নারায়ণগঞ্জে। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়লেই আপনারা এটা জানতে পারবেন। এই নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে আওয়ামী লীগের প্রথম মিটিংয়ের কথা চিন্তা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে যখন সেক্রেটারি করা হয় তখন তিনি জেলে ছিলেন। খন্দকার মোশতাকরা তখন থেকেই ষড়যন্ত্র করছিল। আমার দাদা তখন ধমক দিয়ে বলেছিলেন ওই সেক্রেটারি হবে। সেটার বিরুদ্ধে তখন আর কেউ কথা বলার সাহস পাননি। পরে তিনিই সেক্রেটারি হন।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মন থেকে করি মাথা দিয়ে নয়। যারা মন থেকে রাজনীতিটা করি তাদেরকে নানান সময় ধাক্কা খেতে হয়। সামনেও ধাক্কা আসবে এটা সত্যি। বিএনপির আমলে নারায়ণগঞ্জে জাহানারা ইমাম আসলেন তার শরীরে তখন ক্যান্সার। আমি তখন কঠিন ছাত্রলীগ নেতা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হয়েছি মাত্র। তখন এত ভালো লোক ছিলাম না। আমরা প্যালেস্টাইনের যুবকদের মত বড় হয়েছি তাই অন্যরকম একটা ব্যাপার ছিল। সেদিন নারায়ণগঞ্জে প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড় হচ্ছিল। আমি জাহানারা ইমামকে মা ডাকতাম। সেদিন বক্তব্যে বলেছিলাম এই বৃষ্টি দেখেই যদি ভয় পাই, দৌড় দেই, তাহলে সামনে প্রতিরোধ করবেন কীভাবে। তারা বলার আগেই আমরা নারায়ণগঞ্জে একটা প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ করেছিলাম। তখনই হয়ত আমার ওপর বোম ব্লাস্ট হত। যেদিন আমরা প্রতীকী অনশন করি আমার মঞ্চের সামনে থেকে বিশাল বড় বোমাসহ একজন ধরা পড়েছিল। তাকে কী করা হয়েছে আমরা জানি না।

শামীম ওসমান বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সেদিন অনেক মানুষ আসলো। আমরা সুখের ঢেঁকুর তুলছি। সামনে সুখের সময় নয়। জাহানর ইমাম বক্তব্য শেষ করার পর আমাকে বললেন বাবা আমাকে একটু ধরো। তখন আমি তাকে ধরলাম তিনি আমাকে বলল আমাকে আরও শক্ত করে ধরো। তখন তিনি আমাকে বললেন তোমার মাকে যেভাবে ধরো সেভাবে ধরো। পরে আমি তাকে প্রায় কোলে করেই গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসলাম। তার চোখ এখনও ভাসে আমার সামনে।

জাহানারা ইমাম আমাকে বললেন, আমার সমস্ত শরীরে ক্যান্সার দেশটারও ক্যানসার হয়েছে। দেশটাকে জড়িয়ে ধরো। এরপর নারায়ণগঞ্জে ঘোষণা দিলাম স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আলবদরদের নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে প্রবেশ নিষেধ। এই এলাকার নাম হয়েছে সাইনবোর্ড। এখানে একটা সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। ছাত্রলীগ নেতা নজরুল লাগিয়েছিল। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, পার্লামেন্টে গেলাম ঝগড়া হল একজনের সাথে। তিনি বললেন তোকে দেখে নেব। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডাকলেন ঢাকা আসো। তখন আমাদের কাছে লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল। আমরা ভাবলাম আসুক ওরা হাজার আসলেও আমরা দুইজনই যথেষ্ট। আমি ভেবেছিলাম সামনে থেকে কেউ গুলি করে মারবে। ১৬ জুন ২০০১ সালে এই জাহানারা ইমাম ভবন করার পরিনতি হিসেবে বোমা মারা হয়েছিল। আমার বিশটা ছেলের লাশ টুকরো টুকরো করে দেয়া হয়েছিল। চন্দন ও রতনের দুই পা নেই তাদের জার্মানিতে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা নারায়ণগঞ্জে ফিরে এসেছে এবং তখন থেকেই টেলিফোনে ভাষণ হয়। আমরা আরও আগে থেকেই ডিজিটাল ভাষণ দিয়ে থাকি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে মিছিল না এলে তিনি বাসা থেকে বের হতেন না।

তিনি আরও বলেন, দেশটাকে ভালবাসো। দেশ ভাল থাকলে সবাই ভাল থাকবে। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নয় পুরো জাতির। আর শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশের সম্পদ।

এসময় জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।