আমি শামীম মারা গেলে অনেকে খুশিও হতে পারে: শামীম ওসমান

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন,  আমি উপজেলা নির্বাচনের জন্য আসিনি। আমি এসেছি আপনাদের কাছে একটা মেসেজ দিতে। সামনে যে সময়টা আসছে এটা আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সময়। এই কঠিন পরীক্ষা কার সাথে কার, শেখ হাসিনা মানে কী। শেখ হাসিনা মানে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা মানে উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িকতা। শেখ হাসিনা মানে আমাদের সকলের সন্তানদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজকে আমি শামীম মারা গেলে কিছু হবে না, অনেকে খুশিও হতে পারে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে একসাথে হতে হবে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। কিন্তু পরিবারের মধ্যে যদি মনমালিন্য থাকে সে পরিবার সুখী থাকে না।


সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নেতা কর্মীদের উদ্যেশ্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার জন্য দল করছি। আমাদের অবদান খুব কম। তারপরেও কিছুটা আছে। এই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে যেয়ে ৪৯ জন মানুষকে নিজের হাতে দাফন করেছি। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবীতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে জীবন দিয়েছে তারা আমাদের মাঝে নেই। তাই আমাদের দায়িত্ব বেশি। এই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই নারায়ণগঞ্জকে আমাদের পূর্ব পুরুষরা আওয়ামী লীগের দূর্গ করেছিলেন। আমরা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে চেষ্টা করেছি ধরে রাখার জন্য। এখন জানি কোথায় একটু গন্ডগোল, সবাই স্বার্থের চিন্তা করি আমরা।

তিনি আরও বলেন, আমি সকলকে বলেছি আর না, এবার এক হতে হবে। আকাশে শকুন উড়ছে, এই শকুন কারা। এই শকুন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এই শকুন হচ্ছে যারা গ্রেনেড হামলা করে, যারা নেত্রীকে হত্যা করতে চায় বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করতে চায়। এই শকুনের থাবা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তার জন্য সবচেয়ে বড় পথ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। আমি যখন কানাডা ছিলাম। আমি টেলিফোনে সবার সাথে আলাপ করে কীভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে তা নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আপনারা তা পালন করেছিলেন। আজকে নতুন প্রজন্ম সামনে এসেছে। শক্তি বৃদ্ধি হওয়ার কথা কমার কথা না। কিন্তু আমদের যদি বিভেদ থাকে তাহলে শক্তি কমে যাবে।

শামীম ওসমান বলেন, বঙ্গবন্ধু না হলে আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। আমি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি শোক প্রকাশ করছি আমাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মোশাররফ ভাইয়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমি একটা কথা বলতে চাই। প্রথমেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দিতে চাই। যারা যারা প্রার্থী হয়েছিলেন আমি বলেছিলাম শামসু ভাই যদি আসে আমি তার কথা বলবো। আমি এই কারনে খুশি হইনি যে শামসু ভাই নমিনেশন পেয়েছে, আমি এই কারনে খুশি হয়েছি যে বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় যখন ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হয় আমার কাছে মনে হয় আমরা সবাই মূল্যায়িত হয়েছি। এজন্যে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদের অনুরোধ করি, আজকে থেকে সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ হবে একটা পরিবার। শামসুল ইসলাম ভূইয়া একজন ত্যাগী মানুষ না, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবল সাচ্চা মানুষ। তার স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। যারা পচাত্তরের পরে কান্ডারী হয়েছিলেন, সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া না হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা সাজেন নি। সেই সকল লোককে যখন মূল্যায়িত করা হয় তখন কে কষ্ট পায় না সবাই খুশি হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের কাছে হাতজোড় করে ভিক্ষা চাই, শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে। আমরা সবাই এক থাকবো। আমরা জানি সামনে কী হতে যাচ্ছে। এই আঘাতকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। তাই আপনারা সকলে দয়া করে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম প্রমুখ।

0