আড়াইহাজারের চার গ্রুপের দীর্ঘদিনের বৈরিতার সমাধান করলেন ওসি নজরুল

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে কাকাইলমোড়া গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান চার গ্রুপের দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ ,হত্যা, হামলা, মামলা, বাড়ি দোকানপাট লুট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার ধারাবাহিক ঘটনা হয়েছিল। এ চারটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার লোকমান হোসেন, একই গ্রামের জুলহাস মিয়া, বাহেরচর গ্রামের  সাবেক বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন ও এই গ্রামের স্বপন মিয়া। কাকাইলমোড়া ও বাহেরচর এলাকায় এ ঘটনাগুলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়ে হিয়েছিল।

প্রতি সপ্তাহেই এ দুটি গ্রামে এ চারটি গ্রুপের মধ্যে কোন না কোন ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করত এবং একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এ দুটি গ্রামকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত সময় পার করত। প্রায় সময়ই এখানে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে থানা, ফাড়ি ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়েন করতে হয়। এ চারটি গ্রুপের বিরোধেন কারনে আড়াইহাজার থানা ও কোর্টে অন্তত কয়েক ডজন মামলা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনদের অভিযোগ ছিল, বর্তমান মেম্বার লোকমান হোসেন মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে এবং একটি দুষ্ট চক্রকে লালন পালন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। তার এ অপকর্মের সহযোগি হিসেবে পাশ্ববর্তী কাকাইল মোড়া এলাকার সাবেক বিএনপির সভাপতির ছেলে তোফাজ্জল গ্রুপের সাথে হাত মিলিয়ে তার একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলে এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারতো না।

অপর দিকে আগামী ইউপি নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের সম্বাব্য মেম্বার প্রার্থী জুলহাস মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে তার জনমত বাড়াতে। তার পক্ষে যুক্ত হয় বাহেরচর এলাকার স্বপন গ্রুপ। এ নিয়ে আগামী ইউপি নির্বাচনে এ দুই সম্বাব্য মেম্বার প্রার্থীর এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। এ সকল ঘটনায় কয়েক বছর পূর্বে নয়নাবাদ এলাকার কলেজ ছাত্র নাজমুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার পর থেকে এ এলাকায় সার্বক্ষনিক উত্তপ্ত হয়ে আছে।

অতি সম্প্রতিও বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ও মামলার ঘটনা ঘটলে পুলিশ প্রশাসন তাদের উপর প্রচন্ড ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। পুলিশ সম্প্রতি বিবদমান পক্ষদ্বয়কে আইনের আওতায় আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। পুলিশ উভয় পক্ষের প্রায় দেড় ডজন আসামীকে গেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

সোমবার (১০ মে) বিকালে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামের মধ্যস্ততায় খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদে চার পক্ষের নেতা, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করেন।

আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বিবদমান পক্ষদ্বয়কে বলেন, হানাহানি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হামলা মামলা দিয়ে কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারেনা এবং অন্যকেও শান্তিত্বে রাখা যায়না। সকলকে এ হানাহানি ভুলে গিয়ে নিজেরা একে অপরের সাথে শান্তিপূর্ন পরিবেশে বসবাস করুন। অন্যথায় আইনশৃংখলা বাহিনী তার নিজস্ব আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সকল অপরাধীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, আপনার যদি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরে আসেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের সকল প্রকার আইনের দিক বিবেচনা করে আপনাদের সহযোগিতা করবে।

পরে ওসির কথায় সায় দিয়ে চার গ্রুপের নেতারা নিজেদের বৈরীতা ভুলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের কয়েকশ সমর্থকের সামনে একে অপরের সাথে বুক মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করার ঘোষনা দেন।

এ ঘটনায় খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, ওসি নজরুল ইসলামের প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেরা শান্তির পথে ফিরে এসেছে এটা ইউনিয়নবাসীর আনন্দের ঘটনা।

ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এ দুটি গ্রামের বিরোধ দীর্ঘদিনে রেষারেশির ফসল। আড়ালে থেকে অনেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করে আসছিল। পক্ষদ্বয় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সবাই সবার সাথে বুক মিলিয়ে শান্তির পথে ফিরে আসছে।

0