আড়াইহাজারে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকাকে গণধর্ষণ: বড় দুই ভাই রিমান্ডে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকাকে গণধর্ষণ করে বড় দুই ভাই। সেই গণধর্ষণ মামলায় বড় দুই ভাইকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। সে সাথে একই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি পদান করেছে প্রেমিক নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)।

আসামিরা হলেন- ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী মধ্যপাড়া এলাকার মোতালিবের ছেলে টিউবওয়েল মিস্ত্রী নজরুল ইসলাম সাগর (২৫), তার বড় ভাই রিকশাচালক বাদল (৩৭) ও তাদের ফুফাতো ভাই একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে টিউবওয়েল মিস্ত্রী মুছা (২৪)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আসামী রিকশাচালক বাদল ও টিউবওয়েল মিস্ত্রী মুছাকে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উঠায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ণ কবীর এর আদালত এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

সে সময় একই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে নজরুল ইসলাম সাগর। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা করেন।

রিমান্ড ও জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশ এএসআই অর্জুন বলেন, আজ বিজ্ঞ আদালত আসামী বাদল ও মুছাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এছাড়া একই আদালতে প্রেমিক নজরুল ইসলাম সাগরের ১ দিনের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই প্রেমিকা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। হঠাৎ করে হোস্টেলের পানির ট্যাংকে সমস্যা হলে সে ১০ অক্টোবর গোসল করতে বাড়িতে যায়। পরে আবার মাদ্রাসায় যথা সময়ে ফিরেও যায়। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়ের খোঁজ করলে দারোয়ান সামুছুন্নাহার জানায়, তার মেয়ে মাদ্রাসায় নেই। পরে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যাচ্ছিল না। ১৫ অক্টোবর বিকালে স্থানীয় প্রভাকরদী এলাকা থেকে জৈনক মোবারক নামে এক ব্যক্তি ফোন করে মেয়ের অবস্থান জানায়। বাড়িতে নিয়ে এসে কথা বলে জানতে পারেন, প্রেমিক নজরুল ইসলাম ছদ্ম নাম (সাগর) পরিচয় দিয়ে প্রেম করছিল। ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালের পেছনে রবিন্দ্র বাবুর পুকুর পাড়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে তার বড় ভাই বাদল ও ফুফাতো ভাই মুছা নজরুলকে শাসিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তারা মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাসে একই স্থানে জোরপূর্বক দু’জনই পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

0