ইমাম-ধর্মীয় নেতাদের সাথে এসপি ‘সুদ-ঘুষে বিত্তের মালিক মসজিদের সামনের সারিতে’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘কোন মাতাল যদি মদপান করে মসজিদে প্রবেশ করে, তাহলে আপনাদের কিছু বলতে হবে না, মুসুল্লিরাই ওই মাতালকে মসজিদে ঢুকতে দিবে না। অথচ, সুদ-ঘুষ খেয়ে কিছু অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন, এমন লোকেদের অবস্থান মসজিদের ভিতরে থাকে ইমাম সাহেবের পরেই। হয়তো এ গুলো বলতে গেলে ইমাম সাহেবের চাকরী থাকবে না। তারপরেও ইমামদের উচিৎ বিষয় গুলো উপস্থাপন করে মানুষকে সচেতন করা।’

মাদক, জঙ্গিবাদ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভায় বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দপ্তরটির অস্থায়ী কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এসময় আরও অংশ নিয়ে ছিলেন জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা।

বক্তব্য রাখছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘এখন কিছু টাকা হলেই অনেকে ছেলে মেয়ের বিয়েতে বক্স এনে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নাচানাচি করেন। অনেক ওয়াজ মাহফিলেও আবার বিশাল এরিয়া জুড়ে মাইক লাগান। এতে মানুষ বিরক্ত হন। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এই বিষয় গুলো নিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন। বিয়েতে যেনো উচ্চ শব্দে বক্স বাজানো না হয়, আর ওয়াজ মাহফিলে যেন নির্দিষ্ট এরিয়াতে বক্স লাগিয়ে ওয়াজ করা হয়।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিমাসেই আমরা ১০০ থেকে ১৫০টির উপরে মাদকের মামলা পাই। আমি কিন্তু কাউকেই সাজা দেইনি, সাজার দিবে আদালত। তবে, সম্প্রতি আমার দুই পুলিশের সদস্যের ড্রোপ টেষ্ট করে মাদক সেবনের প্রমান পাওয়ায় সাথে সাথেই বহিস্কার করে দিয়েছি। কারণ তারা মাদকের কুফল জেনেও মাদক সেবন করেছেন। একই ভাবে পুলিশের মতো আলম সমাজকেও সচেতন হতে হবে। যাতে আর কোথাও শিশু বলাৎকারের খবর আমরা না শুনতে পাই। আপনাদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে এই বিষয় গুলোতে। একই সাথে মাদক, জঙ্গিবাদের কোন খবর পেলেই আমাদের জানিয়ে দিবেন। আমি পরিচয়ও জিজ্ঞাসা করবো না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুহা. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সামছুল আলম, ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুহা. জাকির হোসেন বক্তব্য রাখছেন

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় বাল্যবিয়ে বন্ধ করার সংবাদ দেখি ও শুনি। কিন্তু আদো কী বন্ধ হচ্ছে বাল্যবিয়ে? না, বন্ধ হচ্ছে না। এখানে বন্ধ হলে খালার বাড়ি, মামার বাড়ি কিংবা কোন গ্রামে গিয়ে বিয়ে হচ্ছে ঠিকই। বিয়ে গুলো পরাচ্ছে কারা? মসজিদের ইমাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক কিংবা কাজী। তাই আমি বলবো, সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করুন, দেশ পাল্টে যাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মুহা. জাকির হোসেন বলেন, ‘যে যত ভালো অবস্থানেই থাকুক না কেন? সমাজে ইমাম সাহেব আর ধর্মীয় নেতারা বেশ সম্মানী ব্যক্তি। আমরা সারাদিনও যদি কোন কথা মানুষকে বলি, তারপরেও মানুষ ভালো ভাবে নিবে না। কিন্তু আপনারা যদি মাত্র ১০ মিনিটও বলেন, সমাজের মানুষ শুনবে। সমাজের উন্নয়নের জন্য, সমাজের মানুষের ভালো থাকার জন্য সরকার বাহাদুরের কথায় নয়, আখেরাতের কথা চিন্তা করে আপনারা প্রশাসনকে সহযোগীতা করুন।’

0