ঈদ আনন্দে না.গঞ্জের ১০ পরিবারে বিষাদের কান্না

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঈদে মেয়েকে নিয়ে নতুন জামা কিনতে মার্কেটে যাচ্ছিল মা রিমা বেগম। বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় পথেই প্রাণ হারায় মা। আর ৫ দিন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে প্রাণ হারায় মেয়ে।

একই ভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ইকবাল হোসেন নামের এক যু্বকের মৃত্যু হয়েছে।

মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের খুশি নারায়ণগঞ্জে অন্তত ১০টি পরিবার বিষাদে রূপ নিয়েছে। পরিবার গুলোর মধ্যে আনন্দ পরিনত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টে।

ঈদের ছুটিতে ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ১০টি পরিবারের ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-গাজীপুর রুটের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ২৮ এপ্রিল রাতে দুইটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শহিদুল, আয়েছ ও মজিদ নামে তিন জন ধান কাটার শ্রমিক নিহত হন।

ঈদের দিন ৩ মে আড়াইহাজারের বগাদী এলাকায় ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ইকবাল হোসেন (২১) নাম এক যুবকের মুত্যু হয়।

একই দিন বন্দরে ঢাকা-চট্টগাম মহাসড়ক পারাপারের সময় মাইক্রোবাসচাপায় এক নারী নিহত হয়।

ঈদের একদিন পর ৪ মে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের পোস্তগোলা-মাওয়া রুটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের শিহাব (২০) নামে এক যুবক।

এরপর, ৫ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দি এলাকায় ঢাকা-আড়াইহাজার সড়কে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী লাদেন (১৮) ও রিয়াদ (২০) দুই বন্ধু নিহত হয়।

সর্বশেষ ৭ মে বন্দরের ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দেওয়ানবাগ এলাকায় বাসের চাপায় মোবারক (৪৮) নামের এক কৃষক নিহত হয়।

ঈদের মতো আনন্দঘন একটি সময়ে প্রিয়জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে প্রতিটি নিহতের গ্রাম/মহল্লা। শুধু তাই নয় ওই এলাকাগুলোতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।