ঈদ এখন তাদের টার্গেট, নজর গরুর গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে উপেক্ষা করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্যরা। ডাকাতের অপতৎপতার কারনে আতংকে রয়েছে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকরা গরু বোঝাই ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। বিশেষ করে এদের টার্গের গরু বোঝাই গাড়িও বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান।

সম্প্রতি ডাকাত দলের একাধিক সদস্য র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে ডাকাত দলের সর্দার রাজু রয়েছে ধরা ছোয়ার বাহিরে। ডাকাতিসহ পরিবহনের চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জেল হাজত খেটে জামিনে এসে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সর্দার রাজু ও বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ফের অপতৎপতার চালাচ্ছে।

সর্বশেষ গত ১জুলাই শুক্রবার এ দলের ৬ সদস্যকে কাঁচপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উপজেলার কাঁচপুর নয়াবাড়ি এলাকা থেকে আক্তার হোসেন, সানি, শাওন রহমান, জামাল হোসেন, আইয়ুব হোসেন, শাহিন নামের ৬ জনকে পরিবহনের ডাকাতির প্রস্ততি কালে দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আড়াইহাজারে গ্রেপ্তার হয় ডাকাত দলের ৯ সদস্য।

সোনারগাও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র একদল মুখোশধারী ডাকাত উপজেলার কাঁচপুর নয়াবাড়ি এলাকায় মহাসড়েকের বিভিন্ন যানবাহনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সিরাজুল ইসলাম ও এএসআই মজিবুর রহমানসহ সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ছয় ডাকাতকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের প্রারম্ভিক সীমানা সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে সোনারগাঁয়ের মেঘনা পর্যন্ত ডাকাত রাজু বাহিনী অপতৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের নির্জন এলাকাগুলো বেছে নিয়ে রাজু ও তার বাহিনী ওৎ পেতে থাকে। এক্ষেত্রে সাইনবোর্ড থেকে কয়েকশ গজ সামনে পারিজাত এলাকায় রাজু বাহিনী তাদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে।

পারিজাতের নির্জন এলাকায় পরিবহন থামিয়ে চাঁদাবাজি এবং সুযোগ বুঝে যাত্রীবাহি বাসে ডাকাতির জন্য ওৎ পেতে থাকে রাজু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এদের অপতৎপতায় মহাসড়কের কয়েকটি অংশই বর্তমানে পরিণত হয়েছে ডাকাতির ডেঞ্জার জোনে। ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানীর পশু বোঝাই ট্রাকগুলোকে থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাদা আদায় করে রাজু বাহিনী।

জানা গেছে, মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ কান্দাপাড়া বুস গার্ডেন এলাকার রুকু হাজীর ছেলে ডাকাত সর্দার রাজু তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ভুট্রু, আলিমসহ প্রায় ১০/১৫ জনের একটি ডাকাত দল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ডাকাতি করে থাকে। এর আগে ডাকাত সর্দার রাজু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে ডাকাতির অভিযোগ। জেল হাজত খেটে জামিনে বের হয়ে আবার শুরু করে ছিনতাই ডাকাতি।

ঈদ কেন্দ্রিক রাজু ও তার বাহিনীর সদস্যরা আবার শুরু করেছে অপৎতপরতা। সম্প্রতি এদলের কয়েকজন সদস্য র‌্যাবের হাতে এবং কয়েকজন সদস্য পিবিআই সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে রাজু, ভুট্রু ও আলিমসহ অন্যান্যরা। সাইনবোর্ড পারিজাত এলাকায় অভিযান চালালে এদের গ্রেপ্তার করা যাবে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মোহাম্মদ পাশা সম্পতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঈদের আগে (ঈদুল ফিতর) ও পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে র‌্যাব মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখেছে, সোনারগাঁ কেন্দ্রিক একটি ডাকাত চক্র বেশ তৎপরতা চালিয়ে থাকে। এই চক্রটি আড়াইহাজার এলাকার দিকেও ডাকাতি করে থাকে। ইতোমধ্যেই আড়াইহাজার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে র‌্যাব-১১ একটি দল ৯ সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায়ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্র্ধষ ডাকাত চক্রের তৎপরতার খবর রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। অস্ত্র হিসেবে তারা ধারালো চাপাতি, কিরিচ, ছোরা ও রামদা ব্যবহার করে থাকে। মহাসড়কে কোনো কারণে কোনো গাড়ি থামলে বা যানজটে পড়লে সে সুযোগ কাজে লাগায় এ ডাকাত চক্র। এ ছাড়া গাছের ডালপালা ফেলে বা গাড়ির কাচে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেও গতিরোধের চেষ্টা করে থাকে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের ৩০-৩৫টি জায়গায় প্রায়ই ডাকাতি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, কাঁচপুর, কুমিল্লার চান্দিনা, পদুয়া, ফেনীর বড়কুণ্ড, সোয়াগাজী, সীতাকুণ্ড এলাকায় ডাকাত চক্রের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি।

গত ১৯ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাচপুরে সৌদী ফেরত ফারুক হাওলাদারকে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি নগদ ১২ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪০০ সৌদি রিয়াল নিয়ে যায়। ২১ জানুয়ারি সোনাখালী এলাকার কফিল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে সাত-আটজনের একটি দল সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ব্যাগে থাকা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁর মেঘনাঘাট থেকে ফ্রেশ সুগার মিল থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে রাত পৌঁনে ২টার দিকে পাকুণ্ডা এলাকায় ট্রাকটির চালক আফজাল হোসেন ও হেল্পার সোহাগকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চিনিভর্তি ট্রাকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ছাড়াও গত ২৮ মার্চ রাতে মো. জিহাদ নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কাঁচপুর বিসিকের সামনে তার লাশ পাওয়া যায়। জিহাদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকা ভাগ-বাটোয়ারার দ্বদ্বে সে খুন হয়েছে।