এপ্রিলের ১৫দিনে না.গঞ্জে করোনায় মৃত্যু ২৯ জনের

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রিয়জন হারানোর হাহাকার দিন দিন বাড়ছে। মাত্র ১৫ দিনে ২৯জন প্রাণ হারিয়েছে শুধু মাত্র নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের নথিভূক্ত হিসেব অনুযায়ি। তাদের পরিসংখ্যানে মৃত্যু সংখ্যা দুই শ ছুইঁ ছুইঁ করছে। যদিও অনেকের মতে নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি। এর কারনও রয়েছে বেশ কিছু।

এপ্রিলের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান ১৭০ ছিল। মাসের ২য় দিনেই ১জন যোগ হয় তালিকায়। এর পর ৩দিন বিরতি দিয়ে আবার মৃত্যু তালিকা বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে মাসের ১০ তারিখে সেই সংখ্যা দাড়াঁয় ১৮৩। গত তিন দিনেই করোনায় মারা গেছে ১২ জন। বুধবারের হিসেবে ৫জন, বৃহস্পতিবারের হিসেবে ৩জন ও শুক্রবারের সকারে তালিকায় যুক্ত হয় ৪জন।

এপ্রিলের ১ তারিখের ১৭১ এর মৃত্যু সংখ্যাটা ১৬ তারিখ সকালে বেড়ে হয় ১৯৯জনে। দিন বাড়ছে স্বজন হারানোর বুক ফাঁটা আর্তনাত। সরকার ইতমধ্যে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে সর্বাত্বক লকডাউন দিয়েছে। তবে, কল-কারখানা চালু থাকায় নারায়ণগঞ্জের সড়কে হালকা যানবাহনের পাশপাশি সড়কে মানুষের আনাগোনা বেশি। প্রশাসনও মাঠে রয়েছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মানার আগ্রহ খুবই কম।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলার ২টি পরীক্ষাগারে এ যাবৎ ৯৫ হাজার ৪শত ৫০জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৪ রোগী। আর সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭শত ১৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের।

তবে, ১৯৯ জনের মৃত্যু সংখ্যাটা নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের হলেও, সংখ্যাটা আরো কিছুটা বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা, অনেক নারায়ণগঞ্জের রোগী ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যু হয়। অনেক মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আসে না।

গত বছরের ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জের ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দুই মাসের ‘লকডাউনে’ জনজীবন একপ্রকার অচল ছিল। এরপর সংক্রমন কমার সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধও ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জেলায় দৈনিক শনাক্তের হার নেমে এসেছিল মাত্র দশের কোঠায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আবার সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুত গতিতে।

এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত ৫ থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেয়া হলেও সেটি মোটেও কার্যকর হয়নি। তাই এ দফায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ‘কঠোর লকডাউন’ দিয়েছে সরকার।

0