কই গেলো মেয়র আইভীর দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘নারায়ণগঞ্জে অনেক দুর্নীতিবাজ আছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না। তবে আমি দুর্নীতির সাথে কোন রকমের আপস করি না, করবো না।’ এমন কথাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বলে থাকেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর তার এই কথাকে সমর্থন করেন নারায়ণগঞ্জের অনেক সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

তবে সম্পৃতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ‘কই গেলো মেয়র আইভীর দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব?’

কেননা তার নেতৃত্বধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থানে নানান আইন বিরোধী কর্মকান্ড হলেও চুপ রয়েছেন তিনি।

সম্পৃতি মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা উপলক্ষে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। যদিও এরই মধ্যে ৭টি হাটের মাঠ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। হাটের ইজারা না হলেও কোরবানির পশু তোলা হয়ে গেছে কোন কোনটিতে।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সিটি কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তাকে। এমনকি এই বিষয়ে কোন নির্দেশনাও দেননি মেয়র আইভী। তাই এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে ‘অবৈধ হাট বসিয়ে কি তাহলে দুর্নীতি হচ্ছে না?’।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, হাট ইজারার আগে দখল করা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত এবং আইনবহির্ভূত। সিটি কর্পোরেশনের অবশ্যই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত এবং যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমি বলব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কেও একত্র হয়ে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ নেয়া উচিত। এভাবে চলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আর সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা গ্রহন করেছে কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই; আমি জানিনা। তবে হাট দখলের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন যদি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের জরুরি ভাবে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, হাট যারাই দখল করুক সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হচ্ছে এটাকে দখলমুক্ত করে তারপর ইজারা দেওয়া। প্রকৃতভাবে সন্ত্রাসীদের রূপ নারায়ণগঞ্জবাসী আগে থেকে দেখে আসছে। একজন বড় ভাইয়ের ক্যাডাররা এগুলি দখল করে। নারায়ণগঞ্জে এখনো সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা কোনো আইন-কানুন মানে না, তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য কাজ করে। তবে হাট দখলের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা নিবে আমরা নাগরিক হিসেবে সেটাই প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি হাট ইজারা দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। তবে কথা হচ্ছে বিজ্ঞপ্তির আগে হাট দখল হয় কেমন করে। এর মানে মেয়র আইভীকে বিব্রত করার জন্য এবং টাকা ছড়াছড়ি করার জন্য এভাবে আগে থেকেই  দখল করা হয়েছে। বরাবর এমনই করে আসছে কতিপয় সন্ত্রাসীরা এবং এর নেতৃত্বে যারা আছে তাদের উস্কানিতেই এমন কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। আমার বিশ্বাস অবৈধভাবে দখলকারীদের অপসারণ করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত যারা দখল করে আছে তাদের দখল ছাড়তে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর সরকারি হাট বাজার ইজারা ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতি সংশ্লিষ্টনীতিমালা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে সিটি করবোরেশন বা উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত দিনে সকলের সম্মূখে টেন্ডার খুলে সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাটের ইজারাদার হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে ঈদের পূর্ববর্তী ৩ দিনের জন্য পশু বিক্রির অনুমতি পাবে ইজারাদার।