করোনায় কেনলা কিনে আইসিইউ’র যাত্রা শুরু করেছিলাম: টিটু

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু বলেছেন, খানপুর হাসপাতালকে যখন করোনা হাসপাতাল ঘোষণা করা হলো এবং আইসিইউ তৈরী করা হলো, তখন সমস্ত কিছুই সম্পন্ন ছিলো কিন্তু কেনলার অভাব ছিলো। আর সেই কেনালা পাওয়া যাচ্ছিলো না বলে আইসিইউ চালু করা যাচ্ছিলো না। তখন আমি আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে কিছু কেনলা কিনে আইসিইউর যাত্রা শুরু করি। এ ঘটনাটা অবশ্য কেউই জানে না।


সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু সড়কে বিএসবিএল কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সে ক্রিষ্টাল প্যানেল কমিউনিটি সেন্টারে আমেরিকার সামাজিক সংগঠন ‘ভালো’ (ব্রিজিং দ্যা গেপ) উদ্যেগে করোনা পরিস্থিতিতে অস্বচ্ছল যুদ্ধাহত ৮০জন মুক্তিযোদ্ধাকে অর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার জীবনে সবচেয়ে সম্মানের স্থান যাদের দিয়েছি তারা হলেন আমার মা বাবা, বড় ভাই বোন। তার পরের পর্যায়ে আছে আমার দেশের মুক্তিযোদ্ধারা। যাদের জন্য আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। মুক্তিযোদ্ধারা না হলে আমরা এ জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না। আমার জীবনের সবথেকে আপসোস এর বিষয় হলো, আমি যুদ্ধ করতে পারি নাই দেশের জন্য। কিন্তু যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে তাদের জন্য আমার শ্রদ্ধার সীমা নেই।

তানভীর বলেন, করোনার মহামারি যখন শুরু হলো তখন বাংলাদেশের এমন কোনো মানুষ নাই যারা বিপদগ্রস্থ ছিলো না।সব কিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা জায়গায় আছি যে, আল্লাহর রহমতে আমরা একটা ভালো যায়গায় আছি। গতবার করোনার প্রকপে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো ডাক্তারদের থাকার জায়গা। আমরা আমাদের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের গেস্ট হাউজটি ডাক্তারদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। আমরা যদি গেস্ট হাইজের বিল বানাতাম তাহলে সেখানে ৭০ লাখ টাকা বিল হতো। কিন্তু আমরা ডাক্তারদের জন্য সেটি বিনামূল্যেই করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাননীয় এমপি শামীম ওসমান এবং মাননীয় এমপি সেলিম ওসমানের অনুরোধ ছিলো, যাতে আমরা আমাদের ক্লাবের পক্ষথেকে এ আয়োজন টুকু করি। করোনায় ডিসি সাহেব আমাকে সাজেশন দিয়েছিলেন যে, আমাদের পরিবহন শ্রমিকরা, শিক্ষকরা, মুক্তিযোদ্ধারা সব চেয়ে বেশী সমস্যায় আছি। সে সময় আমরা ১ হাজার ৬শ’পরিবহন শ্রমিক পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে সহায়তা দিয়েছিলাম।

তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, আমাদের এমপি সেলিম ওসমার সাহেব আজকে আপনাদের এ অনুদান দিতে বলেছে, কারণ সে আজ রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকায় রয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের তিনি বলেছেন আজকের মধ্যে আপনারদের অনুদান দেয়ার জন্য। তাই ডিসি সাহেবের সাথে পরামর্শ করে আজকে আপনাদের এখানে আসতে বলা হয়েছে। আমি  খুবই লজ্জিত যে আপনারা এতো কষ্ট করে এখানে এসেছেন। আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আজ আপনারা জাতির সূর্য সন্তান। আপনাদের এখনে কষ্ট করে আসতে হয়েছে তার জন্য আমি লজ্জিত। আজকের আয়োজন করেছে যারা তাদের জন্য আপনারা দোয়া করবেন। আপনাদের আর কতদিন দেখতে পাবো জানিনা। হয়তো পরের প্রজন্ম আপনাদের দেখবে বইয়ের পাতায়। সশরীরে মুক্তিযোদ্ধাদের দেখার সুযোগ হয়তো আমাদের পরের প্রজন্মের হবে না।

0