কর্তব্যরত অবস্থায় পিতার মৃত্যু, এখন ছেলে বলে ‘আমিও পুলিশ হবো’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পুলিশের চাকরীতে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করে পিতা আবু হোসেন। এখন ছেলে এসে বলছেন, ‘আমিও পুলিশে কাজ করতে চাই’।

পুলিশে চাকরী করতে দিয়ে প্রিয় স্বামী জাকির হোসেনকে হারিয়েছেন স্ত্রী সেলিনা বেগম। স্বামীকে হারালেও ছেলেকে পুলিশে দিতে চায় ‘এক বাক্যে’।

এভাবেই কনেস্টেবল মো. রনি আহম্মেদ, ইসমাইল হোসেনের পরিবারের সদস্যরাও দেশ মাতৃকার সেবায় পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হতে চান।

কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সদস্যের পরিবার থেকে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’তে এমন চিত্র চোখে পুড়ে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৪ সন্তান আবু হোসেন, জাকির হোসেন, মো. রনি আহম্মেদ, ইসমাইল হোসেন। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন।

যেখানে অন্য পেশায় গিয়ে কারো মৃত্যু হলে পরিবারের বাকি সদস্যরা যেতে চায় না। সেখাতে পরিবার গুলো দাবি করেন, ‘সুযোগ থাকলে তাদেরও যেন পুলিশ বাহিনীতে নেওয়া হয়।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সাকেল মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যখন পাক হানাদার বাহিনী হামলা চালায়। তখন সবার আগে হানাদার বাহিনীর উপর পাল্টা গুলি চলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে। করোনার ভয়ে যখন পরিবারের সদস্যরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, লাশের কাছেও যায়নি। তখন আপনার জন্য কিন্তু থানার গেইট বন্ধ হয়নি। এ ভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ নানা দূর্যোগ আর মহামারিতে অবধান রেখে গেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘কিছু কাজ সারা জীবন কাজে লাগে, কিছু কাজ সাময়িক সময়ের জন্য কাজে লাগে, আর কিছু কাজ শুধুই ঘৃণা দিয়ে যায়। আমরা চাই এই খারাপ কাজ গুলো বাদ দিয়ে, জাতির পিতার আদর্শকে সূচিত করে আগামী দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করি। আমরা সার্বক্ষণিক পুলিশের পাশে থাকবো তাদের যেকোনো কাজে হাত বাড়িয়ে দিবো। আমার ক্ষমতার বাইরে গিয়েও পুলিশকে সার্বিক সহায়তা করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘আমরা পাকিস্থান পুলিশকে ঘৃণা করতাম। পাকিস্তান পুলিশ ছাত্রদের নাম শুনলেই পিটাইতো। ২৫ মার্চ রাতের পর থেকে বাঙালি পুলিশের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মে। তারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পুলিশ ভাইদের বিরাট অবদান রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মৃতব্যক্তিদের দাফন করেছে। তাদের অবদান ভুলবার নয়’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে থেকে যারা হারিয়ে গেছেন। তারা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, কিভাবে নিজের বুকের রক্ত বিলিয়ে দিয়ে দেশমাতৃকার সেবা করা যায়। যে চারজন আমাদের মাঝে থেকে হারিয়ে গেছেন, তাদের পরিবারকে আমি সম্মান ও সেলুট জানাচ্ছি। কারণ তাদের আত্মত্যাগের কারণের বাংলাদেশ পুলিশ সারা বিশ্বের কাছে অনন্য এক মাত্রায় পৌছেছে।’

 

নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

রক্ত দিয়ে কিভাবে দেশসেবা করা যায়, তারা শিখিয়েছেন: পুলিশ সুপার

বিদেশে অনেকে খাবার পায়নি, আমাদের অভাব হয়নি: মন্ত্রী গাজী

ক্ষমতার বাইরে গিয়েও পুলিশকে সহায়তা করতে চাই: এমপি বাবু

আল্লাহ’র কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে : শামীম ওসমান

 

0