খাদ্যে ভেজালকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে: ফরিদ আহম্মেদ

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক ফরিদ আহম্মেদ বাধন বলেছেন, ‘হাসপাতালগুলোতে গেলে মনে হয় দেশে যেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে মধ্য বয়স্ক মানুষগুলো জটিল ও কঠিন রোগে কাতরাচ্ছেন, যা ভালো লক্ষণ নয়। খাদ্যে এমন রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হচ্ছে এখন আর ঔষধেও কাজ হচ্ছে না। যদি খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো দ্রুত বন্ধ করা না হয়, তাহলে এই দেশ অচিরেই কবরস্থানে পরিণত হবে।’

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাবের সামনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন বাংলাদেশ নামের সংগঠনটি।

 

সংগঠনটির আহ্বায়ক সাংবাদিক ফরিদ আহম্মেদ বাধন এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন,ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনিছুজ্জামান অনু,যুগের চিন্তা ২৪ ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ শাওন,নারায়ণগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট কম এর সম্পাদক শহিদুল্লাহ রাসেল,কবি জাহাঙ্গীর ডালিম,সময় নারায়ণগঞ্জ ডট কম এর প্রকাশক আরিফ হোসেন,সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকা।

 

আরও ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নিউজ ডট নেট এর প্রকাশক-সম্পাদক মনির হোসেন,পল্লী চিকিৎসক সমিতি ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ডা.মোক্তার হোসেন, ডা.স্বপন আহম্মেদ,অবলম্বণ সামাজিক সংগঠনের পরিচালক ওয়ালিউল্লাহ খোকন মাস্টার,আওয়ার নারায়নগঞ্জ ২৪ ডট কম এর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মুন্না,নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন বাংলাদেশ এর সদস্য নাহিদ আহম্মেদ, রিংকু,ইকবাল মাহমুদ,বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য নাছির উদ্দিন প্রমুখ। মানব বন্ধনে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালক করেন সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান তোতা।

 

ফরিদ আহম্মেদ বাধন বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু যারা আজকে অতি মুনাফার লোভে খাদ্যে ভেজাল করছে, তারা কারা ? আজকে তাদের চিহ্নিত করে কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কোন ভাবেই খাদ্যে ভেজালকারীদের ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। খাদ্যে ভেজাল রোধ করার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত যারা পরিচালনা করেন তাদের হাতে বিষ সনাক্তের মেশিন ও তাঁদের সাখে ক্যামিস্টও নিশ্চিত করতে হবে। এই বাংলাদেশে বছরে ৪৫ লাখ মানুষ জটিল ও কঠিন রোগে ভুগছেন। যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে বিরল। যদি খাদ্যে ভেজাল রোধে দ্রুত কাযকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে কঠিন থেকে কঠিন কর্মসূচী হাতে নেয়া হবে। প্রয়োজনে বাংলার জনগন তাদের নিরাপদে বাঁচার অধিকারের জন্য রাজপথে নেমে আসবে।

 

সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন,নিরপাদ খাদ্য আমার অধিকার। অথচ এই খাদ্য আজকে হুমকির মুখে। দেশের মানুষ আজকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দেশের সবোর্চ্চ পর্যায়ে যারা আছেন তারা হয়তো তাদের খাবার দাবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খান। কিন্তু সাধারণ মানুষ যাবে কোথায় ? বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। নারায়ণগঞ্জে এতোদিন ধরে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য ভেজালের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না জেলা প্রশাসন! জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক আপনার বেতন হয় জনগনের ট্যাক্সের টাকা থেকে। তাই জনগনের খাদ্য ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

 

ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আনিচ্ছুজ্জামান অনু বলেন, নিরাপদ খাদ্য এখন সময়ের দাবী। খাবারে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর কারনেই মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এখন হাসপাতাল গুলোতে রোগীর সংখ্যাই প্রমাণ করে দেশে মহামারির আকার ধারণ করছে। তাই সরকারের উচিৎ দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাদ্যে ভেজাল রোধ করতে হবে।

 

সাংবাদিক শহীদুল্লাহ রাসেল বলেন, নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা তিনি করেন না। বাজার থেকে ভেজাল খাদ্য নির্মূলে সংশ্লিষ্ট মহলেও অনিহা। কেন এই অনিহা,তা আমাদের বোধগম্য নয়। দেশের মানুষকে অসাধু ব্যবসায়ীরা তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে । নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ করতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এতো মানুষ অসুস্থ হয়না। একমাত্র ভেজাল খাদ্যের কারণে বাংলাদেরেশ মানুষ নানা রকম জটিল ও কঠিন রোগে ভুগছেন। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।