খয়াঘাটে যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ এমপির

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: যাত্রীদের দুর্ভোগহীন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের পূর্ব-পশ্চিম উভয় পাড়ের রাস্তায় অবৈধ দোকানপাট এবং রিকশা স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, মাত্র ৩০ থেকে ৩৫জন মানুষের জন্য হাজার হাজার যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে দোকানপাট আর রিকশা স্ট্যান্ড করে সাধারণ যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। একই অবস্থা নদীর পূর্ব পাড়েও। আমি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো উভয় পাড়েই যেন অবৈধ দোকানপাট ও রিকশা স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে দোকানদারদের যাতে ক্ষতি গ্রস্থ না করা হয়।আমাদের প্রধানমন্ত্রীও চান না যে, যারা রাস্তার পাশে বসে তাদের পূর্নবাসন না করে সরাতে। ওই সকল দোকানদারদের মধ্যে যারা সত্যিকারের অসহায়, দরিদ্র এবং বৃদ্ধ রয়েছে তাদেরকে প্রয়োজনে সহযোগীতা করা হবে।
মঙ্গলবার ৯ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আসন্ন লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান এ অনুরোধ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসপি হারুন অর রশিদ বন্দর ও সদর থানার ওসি কে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন তবে কাউকে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না করা হয় সেই বিষয়টিও খেয়াল রাখার কথা বলেন।
জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এর সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, ¯œান উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত সাহা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, ¯œান উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাসুদেব চক্রবর্তী, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার সহ অন্যান্য হিন্দু নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে এমপি সেলিম ওসমান আরো বলেন, সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বন্দরে এসে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনে এবং সাধারণ মানুষের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী চালু করার ঘোষণা দেন। সেই সাথে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে আরো একটি সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেই সার্ভিস চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। উনার ঘোষণা অনুযায়ী বন্দর ও নারায়ণগঞ্জের মানুষকে সেবা প্রদানের জন্য ফেরী সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে এবং এতে উভয় পাড়ের মানুষ অত্যন্ত খুশি। এমতাবস্থায় নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ফেরী যদি টেন্ডার দেওয়া হয় তাহলে টেন্ডারের টাকা তুলতে ইজারাদাররা সাধারণ যাত্রীদের উপর বাড়তি টোল চাপিয়ে তাদের পকেট কাটতে চাইছে। কারা ওই সকল ইজাদারদের ইন্ধন দিয়ে জনগনের পকেট কাটার চিন্তুা করছে সে বিষয়ে খোজ নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত,হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরীতে যানবাহন ও মানুষ সাধারণ যাত্রীদের উপর বাড়তি টোলের বোঝা না চাপাতে উক্ত ঘাটটি টেন্ডার না দিতে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অধিপ্তরে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে লিখিত ভাবে ডিও প্রদান করবেন। প্রস্তাবে তিনি আরো উল্লেখ করেন, যেহেতু সওজ একটি প্রতিষ্ঠান তাই প্রতিষ্ঠানটি যাতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী মহলের সহযোগীতায় প্রতি বছর ১০ লাখ টাকা করে আগামী ৩ বছরে মোট ৩০ লাখ টাকা সওজ অধিদপ্তরে জমা দিবো। যা দিয়ে ফেরী গুলোর যন্ত্রাংশ ক্রয় সহ অন্যান্য কাজ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে আসন্ন রমজান মাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা চিন্তা করে নদী পারাপারে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ৫নংঘাাট-বন্দরখেয়া ঘাটের ফেরী সার্ভিসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে তা দিয়ে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ফেরী ঘাট দিয়ে যাত্রীদের আরো উন্নত সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি উক্ত ঘাট দিয়ে যাতায়াতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বা তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ, ফায়াস সার্ভিস ও মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করা হবেও বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল বিকেল ৫টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নির্বাহী প্রৌকশলীর আলিউল হোসেন এর সাথে আলোচনাকালে সেলিম ওসমান এমন প্রস্তাব রেখেছেন।