গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি বাসদের

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ সোনারগাঁ উপজেলার সমন্বয়ক বেলায়েত হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুন্নি সরদার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমে এসেছে তখন আমাদের সরকার রেকর্ড পরিমান তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। ডিজেলের দাম ৪২.৫% বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিন ৪২.৫% বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোল ৫১.১৬% বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ৫১.৬৮% বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের সময়ে জ¦ালানির মূল্য বৃদ্ধি জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের মূল্য আরও অনেক বাড়িয়ে দেবে। কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বাড়বে। ইতোমধ্যে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির কার্যকর হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিপিসি গত ৮ বছরে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। গত কিছুকাল তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি থাকায় সরকার লোকসানের কথা বলে এ দাম বৃদ্ধি করল। দাম বৃদ্ধি করার কারণ হিসাবে ভারতে তেল পাচারের কথাও বলেছে। ভারতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দাম সমন্বয় করে। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় ভারতেও দাম কমে যাচ্ছে। এখানে পাচারের কথা বলা দাম বৃদ্ধিও একটি অজুহাত মাত্র। ক্রুড অয়েলের দাম এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। এটা আরও কমবে। তেল থেকে সরকার শতকরা ৩২ টাকা কর নেয়। বিপিসির বিগত দিনের বিপুল পরিমান লাভ বিবেচনায় নিয়ে এবং কর কমিয়ে সরকার জনজীবনের বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় তেলের দাম না বাড়ালেও পারত। পেট্রোল এবং অকটেন দেশে উৎপাদন হয়। এর দাম বৃদ্ধির আসলে যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ নেই। শোনা যাচ্ছে আইএমএফ এর শর্ত পূরণের জন্যই এক লাফে এ মূল্য বৃদ্ধি করা হল। দেশের শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বাড়েনি, মধ্যবিত্তের আয় বাড়েনি, জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয় পরিবহনের নৈরাজ্য। গতকাল সরকার দূরপাল্লার বাসে ২২.২২% এবং নগরে ১৬.২৭% ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু বাস মালিকরা স্বেচ্ছাচারীভাবে অনেক বেশি পরিমাণে ভাড়া আদায় করছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে মালিকরা ৪৫ টাকার ভাড়া ৪৪.৪৪% বাড়িয়ে ৬৫ টাকা আদায় করছে। পরিবহন মালিকদের কাছে সরকার-প্রশাসনকে সবসময়ই নমনীয় দেখা যায়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে আইন লঙ্ঘন করেছে। এসরকার একবার বিনা ভোটে এবং একবার রাতের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার লুটপাটকারী, দূর্নীতিবাজদের সহায়তায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই জ্বালানি খাতের দূর্নীতি-অনিয়ম দূর না করে দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে দূর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদেরই রক্ষা করল। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি তেলের ও পরিবহনের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং দাম না কমলে কঠোর কর্মসূচি আসবে বলে জানান।