গোগনগরের ২৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা পেলেন সংবর্ধনা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলতে একজন মানুষ পাইনি। বলার আগে ভাবতে হয়েছে, সে যদি বলে দেয় রাজাকারদের, তাই সেদিন আমাকে স্ত্রী-সন্তান রেখে একাই ভারতে পাড়ি জমাতে হয়েছিল। একাই গিয়ে নিয়েছিলাম যুদ্ধের প্রশিক্ষণ। অথচ, আজকে এই আমাকে সংবর্ধনা দিতে কত মানুষ! খুব খুশি লাগছে। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি’।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বাদ আসর গোগনগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বীর মুক্তিযুদ্ধের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজেদের অনুভূতির কথা বলছিলেন সৈয়দপুর ইউনিয়নের এক মুক্তিযোদ্ধা।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো. ফজর আলীর উদ্যোগে ‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশেদ আলী ফাউন্ডেশন ওই সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

কোরআন তেলওয়াত, জাতীয় সংগীত ও এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। শুরুতেই ৭১’ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে স্মৃতিচারণ করেন ৭১’র বীর সৈনিকরা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। সবার শেষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া গোগনগর ইউনিয়নের ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেওয়া হয় সম্মাননা।

তাঁরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ উদ্দিন তপু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর সোবহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাশেদ মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির উদ্দীন আহম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম গিয়াসউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম মোসলেহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শরিফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজ আহমেদ মাসুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শের মোহাম্মহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন ফকির চাঁন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মতিউল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাবিবুল্লাহ রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীয়তউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হামজা।

প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশেদ আলীর আপন ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো. ফজর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোহাম্মদ শাহজামান।

শহীদ মো. বাদল বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহস আমার নেই। আমি এখানে আসছি প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের ধুলা নিতে। শুধু আমি নই, এই বাঙ্গালী জাতি আপনাদের(বীর যোদ্ধাদের) কাছে চিরদিন ঋনী হয়ে থাকবে। জীবন দিয়ে হলেও আমরা আপনাদের এই ঋন শোধ করতে পারবো না।’

ওসি শাহজামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি বরিশালের ছেলে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এসে ওসির দায়িত্ব পালন করছি। আর এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে আপনাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। দেশ যদি স্বাধীন না হতো, তাহলে কখনোই আমরা আজকের অবস্থানে যেতে পারতাম না। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষ ততদিনই কৃতজ্ঞ থাকবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ফজর আলী বলেন, ‘আমার ভাই প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশেদ আলী করোনার পূর্বে আমাকে বলেছিলেন, সৈয়দপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিবেন। কিন্তু, এর আগে আমার ভাই চির বিদায় নিয়েছেন। তার শেষ ইচ্ছেটুকু পূরন করতে পারেননি। তাই, আজ আমার ভাইয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী, বীর যোদ্ধাদের এই সংবর্ধনার অনুষ্ঠান। আপনারা সকলেই আমর ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

অনুষ্ঠানটি চলাকালীন সময়ে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থনে প্রধান অতিথি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল অনুরোধ করেন প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশেদ আলীর ছোট ভাই মো. ফজর আলীর প্রতি, ‘তিনি যেন গোগনগর ইউনিয়নবাসীর দায়িত্ব পালন করতে রাজী থাকেন’।

আবু সাইদ শিপলু সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজির উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ পাট আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম মোসলেহ উদ্দিন, সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও সমাজ প্রধান মো. নাজির হোসেন ফকির, প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশেদ আলীর বড় ছেলে মো. কাশেম, নুর হোসেন সওদাগর মেম্বার, মোক্তার মেম্বার, জুলহাস মেম্বার, সৈকত মেম্বার, পুরান সৈয়দপুর সমাজ প্রধান রুছতম আলী সরদার, সৈয়দ হোসেন, গাজী কামাল প্রমুখ।

0