গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে বাসদের মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উদ্যোগে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ চৌধুরীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় আরও জানানো হয়, বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নেতা নির্মল বর্মন, হাসান মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন যুক্তি ছাড়াই আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে সরকার। জ¦ালানী প্রতিমন্ত্রী দাম বাড়ানোর অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ ২০১৯ বিইআরসির গণশুনানির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সবগুলো গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লাভজনক অবস্থায় আছে। গণশুনানিতে গ্যাস কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারে নি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এক বার্নারের ক্ষেত্রে ৮৫ ঘনমিটার এবং দুই বার্নারের ক্ষেত্রে ৯২ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের দাম নেয়া হয়। কিন্তু তিতাস গ্যাস কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী এক বার্নারে গ্যাস সরবরাহ হয় ৪৫ ঘনমিটার এবং দুই বার্নারে গ্যাস সরবরাহ হয় ৪৭ ঘনমিটার। অর্থাৎ গ্যাসের দাম নেয়া হয় দ্বিগুণেরও বেশি। গণশুনানিতে তিতাস সব ধরনের গ্যাস সরবরাহে গড়ে ১০২.৮৫% বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, গৃহস্থালিতে সিঙ্গেল চুলা ১৩৫০ টাকা ও ডাবল চুলা ১৪৪০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। সারাদেশে গৃহস্থালিসহ শিল্প কারখানার জন্য পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ নেই। বিকল্প হিসাবে মানুষ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে জেলায়, উপজেলায় বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ১২ কেজির ১টি সিলিন্ডারে গ্যাস থাকে ১৬ ঘনমিটার। বর্তমানে সিএনজি পাম্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি হয় ৩৮ টাকায়। তাহলে ১ সিলিন্ডার গ্যাসের দাম হওয়ার কথা ৬০৮ টাকা। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০০/১২০০ টাকায়। এসব বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নীরব ভূমিকা পালন করে। অথচ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এর দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু কমিশন সরকার ও কোম্পানির স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৎপর।

সবশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ভুলনীতি ও দুর্নীতির দায় জনগণ নেবে না। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিদেশি কোম্পানিদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এই বিদেশি কোম্পানিরাই মাগুরছড়া ও টেংরাটিলায় অগ্নিকা- ঘটিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে, মেরুদ-হীন সরকার ক্ষতিপূরণও আদায় করতে পারেনি। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের কয়েক হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। গ্যাসের দাম বাড়ালে সমস্ত নিত্য পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, গাড়িভাড়া বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। নেতৃবৃন্দ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।