জঙ্গি আদলের সেই ছবির ‘জৈনপুরীর ভাই’ গ্রেপ্তার

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জৈনপুরী পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ছোট ভাই নেয়ামত উল্লাহকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইটুও (পরির্দশক) সাজ্জাদ রোমন।

নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীর তোলা একটি ছবি নিয়ে নারায়ণগঞ্জসহ সর্বত্রই আলোচনার ঝড় উঠে। স্থানীয়-জাতীয় গণমাধ্যমসহ স্যোসাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয় ওই ছবিটি। পুলিশ প্রশাসন বেশ গুরুত্ব দেয় বিষয়টি। রোববার রাতে (২৮ এপ্রিল) নেয়ামত উল্লাহর পাঠানটুলীর বাড়িতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ অস্ত্রের সন্ধানে গিয়ে জানতে পারেন ওই দুটি খেলনা। এ বিষয়ে শাহীন শাহ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, যেহেতু অস্ত্রসহ ছবিটি আমাদের নজরে আসে তার উপর তিনি মামলার আসামী তাই তার বাড়িতে আমরা যাই। বাড়ির লোকজনের তথ্য মতে ওই দুটি খেলনা অস্ত্র। এছাড়া আসামীর বাড়িতে এক শিশুও ওই সময় খেলনা নিয়ে খেলতে ছিল। আমরা মামলার স্বার্থে খেলনা অস্ত্র দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসি।

এদিকে, ৩০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ২ টা ৫১ মিনিটে এক ক্ষুদে বার্তায় সাজ্জাদ রোমন প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীর বন্দুক পিস্তল সহ ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তিনি ওসি সিদ্ধিরগঞ্জকে তাকে দ্রুত গ্রেফতারসহ তার বন্দুক পিস্তল উদ্ধারের নির্দেশ দিলে থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও অভিযান অব্যহত আছে জানিয়ে ওই ক্ষুদে বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, এ ব্যাপরে বুধবার (১ মে) বেলা পৌনে ১১ টার দিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ব্রিফ করবেন।

এর আগে, ২৫ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাতে পাঠানটুলীর এইচ এন এপারেলস লিমিটেড নামের গার্মেন্টে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা ওই মামলায় নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দেড় শ জনকে আসামী করা হয়। মূলত এর পরই ওই ছবিটি আসে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। ছবিটিতে দেখা যায় কোন একটি রুমের বিছানায় বসে এনায়েত উল্লাহ আবাসী একটি পিস্তলের দিকে মনোযোগ, তার পাশেই একটি বন্দুক দেয়ালে ঠেস দিয়ে খারা করে রাখা। আর এনিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

গত কয়েক দিন বিভিন্ন গণমাধ্যম জৈনপুরি পীর ও তার ভাইদের নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় বেশ নাখোশ হয়েছেন। ২৯ এপ্রিল রাতে মারকাজু তাহারিকে খতমে নওব্যুয়াত কারামাতিয়া মাতলাউল উলুম মাদরাসার খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে বয়ান করতে গিয়ে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি করেন।

এছাড়াও ২২ ফেব্রুয়ারি নাশকতা করার পরিকল্পনার অভিযোগে এই পীরের আরেক ভাই এমদাদউল্লাহ আব্বাসীসহ জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছিলো, নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠককালে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। আর এসব সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওই তথাকথিত জৈনপুরী পীর ওরফে হেলিকপ্টার হুজুর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২১ (২), ২৮ (২), ২৯ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের পীরকে নিয়ে (ইউটিউবে) অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগে দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইইয়্যিনাত পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক মুফতি আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

বাদীর আর্জির প্রেক্ষিতে সাইবার ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিআইডি পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে অভিযোগটি তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।

 

 

0