ডালিম-সবুজের ‘আম কাঠালের ছুটি’ ইন্দোনেশিয়ায়

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: লেখক শরীফ উদ্দিন সবুজের ‘মইন্না ভাই বল্লা রাশি’ বইকে ভিত্তি করে নুরুজ্জামান ডালিমের তৈরী করা পূর্নদৈর্ঘ শিশুতোষ সিনেমা ‘আম কাঠালের ছুটি’ যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে। এশিয়ান জীবনধারাকে প্রতিনিধিত্ব করা ছবি হিসেবে ‘এশিয়ান পারস্পেকটিভ বিভাগে’ অফিসিয়াল মনোনয়ন পেয়েছে ছবিটি।

আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ‘জগজা-নেটপ্যাক এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ শীর্ষক এ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়ান চলচ্চিত্র নিয়ে এ চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়।

‘মইন্না ভাই বল্লা রাশি’ বইয়ের লেখক শরীফ উদ্দিন সবুজ জানান, এ বইয়ের গল্পের সময় নব্বইয়ের দশক। আর পটভ‚মি মূলত নারায়ণগঞ্জ শহর ও তার আশেপাশের এলাকা। তখনো নারায়ণগঞ্জ শহরের আশেপাশে গ্রাম বলতে যা বোঝায় তা ছিলো। শহরের শিশু শুভ গ্রামে স্কুলের ছুটি কাটাতে গিয়ে যেসব ঘটনা ঘটে তা-ই গল্পের বিষয়। গল্পগুলি সবই সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আর গল্পের মূল চরিত্র কিশোর ‘মইন্না’ ভাইও বাস্তব চরিত্র। নির্মাতা নুরুজ্জামান ডালিম বইটি অবলম্বনে চিত্রনাট্য নিজের মতো করে কিছুটা পরিবর্তন করে তৈরী করেছে। এতে ছবির মজা আরো বেড়ে গেছে।’ শরীফ উদ্দিন সবুজের সায়েন্স ফিকশন ও শিশুতোষ গল্প নিয়ে সতেরটি বই রয়েছে।

পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের এটি প্রথম ছবি। তিনি জানান, আমার মেয়েকে আমার ছোটবেলা দেখানোর পরিকল্পনা থেকে বলা যায় ছবিটি তৈরীর মূল উৎসাহ। ছবিটি দেখে একদিকে শিশুরা বিশেষ করে নাগরিক শিশুরা আমাদের গ্রামের সাথে, সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হবে। নাগরিক শিশুদের বেশিরভাগ সময় কাটে চারদেয়ালের ভেতরে। তাদের বাড়িটা চার দেয়ালের ভেতরে, স্কুল চার দেয়ালে, ব্যায়াম করার জায়গা চার দেয়ালে, রেস্টুরেন্ট চার দেয়ালে। বলতে গেলে চার দেয়ালের ভেতরেই তাদের শৈশব কেটে যায়। এর বাইরে বের হয়ে শহরের শিশু শুভ কিভাবে গ্রামের অন্য একটি জগৎ আবিস্কার করে, মজা করে সময় কাটায়-সেই ভিন্ন জগৎটির সাথে পরিচিত হবে শিশুরা এ ছবি দেখে। অন্যদিকে সত্তর, আশি বা নব্বই দশকে যারা শিশু ছিলেন তারা নিজেদের শৈশবকে খুঁজে পেয়ে নষ্টালজিক হবেন এ ছবিতে।

আগামী ২৭ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সময় সন্ধা সাতটায় ‘আম কাঠালের ছুটি’র প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৯ নভেম্বর রাত আটটায় উৎসবে ছবিটির আরেকটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে যোগ দিতে ২৫ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ ছাড়বেন ছবির পরিচালক নুরুজ্জামান।