তেলের মূল্য বৃদ্ধি:  বিকেএমইএ’র অনুরোধ ‘বিকল্প পরিকল্পনার’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাপে পড়বে নীট সেক্টরসহ দেশের সকল খাত। এমনটাই জানিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন ‘বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বিকেএমইএ)।  আর এই চাপ এড়াতে বিকল্প পরিকল্পনা করার অনুরোধ করেছে এ সংগঠনটি।


শনিবার ( ৮ জুলাই)  বিকেলে সংগঠনের সভাপতি এমপি সেলিম ওসমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ করা হয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ব বাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকে, ঠিক তখন আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আমাদের হতবাক করেছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে নিঃসন্দেহে চাপে পড়বে রপ্তানীমূখী শিল্পখাত।  যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃ বিবেচনা করা হবে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রাণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত ০৫ আগষ্ট এই মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপণ দিয়ে জালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানীখাত নীট সেক্টরসহ দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে মারাত্বক বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলে আমরা মনে করছি। বিশেষ করে ডিজেলের দাম ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রতিলিটার ১১৪ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৩৪ টাকা বৃদ্ধি) করার সিদ্ধান্তের কারণে এর প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ, পরিবহন তথা অন্যান্য উপখাতগুলোতে পরবে, নিঃসন্দেহে।  যা প্রকারান্তরের নীট/পোষাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে হ্রাস করে দিবে। ফলে দেশের নীট পোষাক শিল্প উদ্যোক্তাদের রপ্তানী প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে জরুরী ভিত্তিতে আলোচনায় বসে খাতোয়ারী বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরী বলে বিকেএমইএ মনে করছে।

দীর্ঘ দুইবছর যাবৎ করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় এক ধরনের দীর্ঘ শ্লথ প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে, যা থেকে আমরা এখনো বেরোতে পারিনি। তার উপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্ব মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে সারা বিশ্বের অর্থনীতি। ফলে পুরো বিশ্বের কাঁচামাল সরবরাহ চেইনে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি নীট সেক্টরসহ দেশের পোষাক শিল্পের উপর পড়েছে। এই শিল্পখাতটি মূলত পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রমিক এই চারটি দেশীয় উপাদানকে মূল সরবরাহ চেইনে ধরে বাকি সব কাঁচামাল বহির্বিশ্ব থেকে আমদানী করে রপ্তানী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এই দেশীয় উপাদানগুলো প্রাপ্তিতে কোন ধরনের চাপ তৈরী হলে পুরো সেক্টরটিই চাপে পড়ে যায়। এমনিতেই বিগত কিছু সময় ধরে আমরা কারখানাতে গ্যাসের প্রবাহ/প্রেসার ঠিকমতো পাচ্ছি না, যা আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করছে। তার উপর ২০২২-২৩ সালের অনুমোদিত বাজেটে উৎসে কর .৫০% থেকে বৃদ্ধি করে ১% করায় শিল্প উদ্যোক্তারা মারাত্মকভাবে চাপে পড়ে গেছে। এতো কিছুর পরেও গত বছর একদফা বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি এবং মাত্র কিছুদিন পূর্বেই গ্যাস এর মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার এবং এই সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের ব্যাপক চাপে ফেলবে জেনেও দেশের স্বার্থে আমরা বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এটিকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখন জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপরই একটি মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে, ফলে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে আশংকা থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানীখাত নীট শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশকে ধরে রাখতে ও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে যে অর্থনৈতিক বোঝা এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের উপর পড়েছে, তা নিরসনকল্পে জরুরীভাবে আপাতকালীন সময়ের জন্য নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করে, তা সমন্বয়ের অনুরোধ জানাচ্ছে বিকেএমইএ।

বিকেএমইএ সবসময়ই বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার অংশীদার। সরকারের সহযোগী হিসেবে বিকেএমইএ সরকারের রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে এই শিল্পের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি ও পলিসিগত কারণে যদি এই শিল্পখাত একবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তবে তা রপ্তানী ও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুটোকে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। এই বিষয়টিতে আমাদের সকলের দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে উক্ত সামগ্রিক বিষয়ে অতীতের মতোই সরকারের ব্যবসা-বান্ধব নীতিগত সহায়তা কামনা করছে বিকেএমইএ ।