দলীয় নেতারা চুনোপুটি তিনি রাঘব বোয়াল

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: উচ্চাবিলাসী আর বেঁফাস কথাবার্তার জন্য বারবার তিরস্কারের মুখোমুখি হয়েও সেই অভ্যাস ত্যাগ করেননি সিটি মেয়র আইভী। ১৮ বছর মেয়রের চেয়ারে বসে নিজেকে রাজনীতির রাঘব বোয়াল ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। একারণে নগরবাসীর জন্য কাজের কাজ করতে না পারলেও বড় বড় কথায় পটু এই মেয়র। এমন অভিযোগ করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, রাজনীতিতে মেয়র আইভী আমাদেরও জুনিয়র। আর মাঠের রাজনীতিতে তো শিশু। বিদেশ থেকে উড়ে এসে শুধু ক্ষমতা দেখেছেন, দেখেননি কোন আন্দোলন সংগ্রাম, দলের হয়ে মাঠে নামেননি কখনো। রাজনৈতিক মামলা-হামলারও শিকার হননি কখনো। শুধু ভোগ-বিলাসের রাজনীতি করেছেন। সেই আইভী দলের নেতাদের চুনোপুটি বলেন। আর নিজেকে ভাবেন রাঘব বোয়াল। যে আনোয়ার হোসেনকে (মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি) পাশে নিয়ে তিনি গলাবাজী করেছেন, কিছুদিন আগেও সেই সেই আনোয়ার সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আনোয়ার হোসেনকে সে নাকি সভাপতি বানিয়েছেন। তাহলে আইভী কি শেখ হাসিনার চেয়েও বড়? সে খোকন সাহাকেও নেতা বানিয়েছেন বলে দাবি করেন। আসলে এসব রাজনৈতিক উচ্চাবিলাসী বক্তব্য ছাড়া কিছুই নয়। তিনি বুঝে গেছেন তার সময় শেষ হয়ে আসছে। ক্ষমতার ১৮ বছরে যেসব অনিয়ম-দূর্ণীতি করেছেন, করিয়েছেন, জনগনকে যেসমস্ত মিথ্যা কথা বলেছেন, নেতাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে পদ আকড়ে রেখেছেন। এবার আর সেটি হচ্ছেনা। আর তাই আবোল-তাবোল বকছেন আইভী।

স্থানীয়রা জানায়, পিতার নামের উপর দাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্থান হওয়া আইভীর সাম্প্রতিক নেতীবাচক মন্তব্য, উচ্চাবিলাসী কথাবার্তা আর অহংকারবোধ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখন তুঙ্গে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চরিত্র হননে পারদর্শী ঐ নেত্রী নিজেকে মিথ্যার ফুলঝুড়ি দিয়ে বারবার ধোয়া তুলসী পাতা সাঁজাতে চান। তার বিশেষ সুবিধা হচ্ছে, তিনি একজন নারী। তার কথা অনেকে মুল্য না দিলেও রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিসাধন ও চরিত্র হননে সর্বদা এগিয়ে থাকেন তিনি। কখনো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। আবার কখনো বলেন, আমি তার কর্মী। রাজনীতির মাঠে যাদের চরিত্রহনন করেন কখনো কখনো তাদেরই ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি কখন কি করেন, বোঝা মুশকিল। তবে, সবই করেন নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে একথা দিবালোকের মতো সত্যি। কেননা চেয়ার টিকিয়ে রাখতে কখনো কখনো বনে যান বিএনপি, বনে যান জামায়াত, বাম আরো কত কি। তার শেষ কথা হলো ‘তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিন চাই’। সেই সোনার হরিনের আশায় একে সময় একেক বক্তব্য রেখে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতর্কের শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন সেই নেত্রী। আর যাদের নিয়ে কথা বলেন, তারা তো এসবকে পাত্তা দেনই না বরং তাদের বিশাল কর্মী-সমর্থক বাহিনীও এখন আর গোনায় ধরেন না এসব বেফাঁস মন্তব্য। তবুও সোনার হরিনের আশায় চালিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক নেতিবাচক কথা।

তারা আরও জানায়, একজন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, জনপ্রিয় সাংসদকে নিয়ে যে ভাষায় তিনি কথা বলেছেন, সেটা নিতান্তই কোন রাজনীতিকের মন্তব্য হতে পারেনা। এগুলো নিন্মশ্রণীর কথাবার্তা। আর এসব বলে নিজের পায়ে নিজেই কুঠারাঘাত করে চলেছেন। কেননা ইতিপুর্বে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পরিবারটিকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র মেয়রের চেয়ার ধরে রাখতে এসব করেছেন এবং করছেন এটা কারও বোঝার বাকী নেই। সবচে বড় কথা হলো, এখন আর সস্তা কথায় চিড়া ভিজেনা।

নগরবাসীর মতে, সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে হিন্দু কমিউনিটি, হেফাজতে ইসলাম, ব্যবসায়ী সমাজ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। করোনাকালে তার ভূমিকা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে নগরবাসীর নখদর্পনে। এ অবস্থায় জনপ্রিয়তা যখন শুণ্যের কোটায় তখনই আবোল তাবোল, কাল্পনিক কথা বলে আওয়ামী বিরোধীপক্ষ ও স্বাধীণতার বিপক্ষ শক্তিকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সবাই এখন অবগত যে, বিপদে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেয়াই তার দর্শন। সুতরাং একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের ফেমাস একটি বাক্য বলতে হচ্ছে আর তা হলো ‘দিল্লি বহুদূর’।

0