দাফনের ৫ দিন পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হত্যাকান্ডের ঘটনার ৫ দিন পর বন্দরে বেঁদে সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূর মৃত দেহ স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে উত্তেলল করা হয়েছে। পরিবারের দাবি নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুরাইয়া ইয়াসমিনের উপস্থিতে ওই মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহত গৃহবধুর নাম, ফাতেমা আক্তার (২৭)। সে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মোল্লাকান্দী এলাকার বেদে সম্প্রদায়ের নোয়াব মিয়ার মেয়ে৷ ১০ বছর আগে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চর ধলেরশ্বরী গ্রামের একই সম্প্রদায়ের মোর্শেদ মিয়ার সাথে বিয়ে হয় ফাতেমার৷

এর আগে গত বুধবার নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে আসামি করে নিহতের মা রোজিনা বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান৷

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা ও মোর্শেদ দম্পতির সাত বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে৷ গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফাতেমার বাবার বাড়িতে ফোন করে গৃহবধূ ফাতেমা বেগম অসুস্থ বলে জানায়। এর দুই ঘন্টা পর রাত সাড়ে তিনটায় স্বামী পক্ষের আত্মীয় স্বজনরা জানায়, ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন। এ সংবাদ পেয়ে নিহত গৃহবধূর পিতা-মাতাসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ৩১ জুলাই সকাল ৮টায় স্বামীর বাড়িতে এসে লাশ দেখতে পায়। এ সময় লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। গৃহবধূর স্বজনরা লাশ দাফনের জন্য মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যেতে চাইলে নিহতের স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন বাধা দেয়৷ তড়িঘড়ি করে চরধলেশ্বরী গ্রামে মরদেহ দাফন করা হয় বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন৷

নিহতের মা ও মামলার বাদী রোজিনা বলেন, পারিবারিক নানা বিষয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফাতেমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো৷ শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ মায়ের৷

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, দুই পরিবারই বেঁদে সম্প্রদায়ের৷ পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়৷ ফাতেমার মৃত্যুর পর বাবার বাড়ির লোকজন মরদেহ মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশকেও বিষয়টি জানায়নি৷ এতে তাদের মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ হয়৷ এর আগেও মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ স্বজনদের৷

তিনি আরও জানান, নিহত নারীর মায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের আবেদন করে পুলিশ৷ পরে আদালতের অনুমতিক্রমে মরদেহ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়৷ এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে৷ তারা পলাতক রয়েছেন৷ তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।