দূর্যোগেও দেখা মেলেনা আইভীর

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কুমিল্লায় একটি অনাকাংখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সারাদেশে রেড এলার্ট ছিলো। মোতায়েন করা হয়েছিলো বিজিবি। প্রশাসন, আইন-শৃংখলা বাহিনী দিনরাত কঠোর নজরদারী ও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। টানা ৭২ ঘন্টা পুলিশের ১৮শত সদস্য পরিশ্রম করেছেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঘরে বসে থাকতে পারেননি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতারাও। জেলার প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান নিজে গাড়ীতে করে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পর্যবেক্ষন করেছেন পরিস্থিতি।

জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলে যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম ওসমান। প্রশাসনের পাশাপাশি তারই নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজা মন্ডপে পাহাড়া দিয়েছেন। জেলা-মহানগরের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান নিয়ে শান্তির পক্ষে জনমত তৈরী করেছেন। তেমনি বিভিন্ন মন্দির ও পূজা মন্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভয় দিয়েছেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আগেও ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এটাই রাজনৈতিক দর্শন। দেশ, দল ও মানুষের যেকোন বিপদে বা ক্রান্তিলগ্নে পাশে থাকাটাই রাজনীতির সবচে বড় ভিশন। এই ভিশনের বাইরে যারা রাজনীতি করেন তাদের রাজনীতি হচ্ছে ব্যক্তিস্বার্থের। একপেশে রাজনীতি। চাওয়া-পাওয়ার রাজনীতি। এরা দূর্যোগে-দুঃসময়ে দেশের, দলের বা মানুষের পাশে থাকেন না। শুধু যেখানে স্বার্থ আছে, সেখানেই দাড়িয়ে যান জোর গলায়। দূর্যোগে পাশে না থেকেও তারা অন্যের ঘাড়ে চড়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, খাতা-কলমে রাজনৈতিক পদ থাকলেই নেতা বা নেত্রী হওয়া যায় না। আজকাল কেউ কেউ মনে করেন, পদ থাকলেই হলো। মানুষের পাশে না থাকলেও চলে। নির্বাচন এলে মায়াকান্না আর কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো যায়। তবে কতদিন? নারায়ণগঞ্জসহ যেকোন জাতীয় দূর্যোগ বা ক্রান্তিকালে পাশে না থেকেও দেদারসে নিজেকে জাহির করে বেড়ান একজন জনপ্রতিনিধি। দম্ভ করে বলেন, পুরুষের কোন অংশে কম না তিনি, শাড়ীর পরিবর্তে জিন্স পড়তেও নাকি অভ্যস্ত। বৈশি^ক মহামারী করোনাকালে তাকে কোথাও দেখা যায়নি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজের আলিশান বিলাসবহুল বাড়ীতে দরজা বন্ধ করে বসে ছিলেন। ঘরে বসে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জোর গলায় বলেছেন, ‘রিক্সাচালকের ঘরেও ১৫ দিনের খাবার আছে। গার্মেন্টস কর্মীরা সব গ্রামের বাড়ী চলে গেছে। তাহলে কাদের ত্রাণ দিবো’। আর ওদিকে ত্রাণের দাবিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলরদের কার্যালয় বাড়ী-ঘর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনতা। মোবাইল ফোনে ত্রাণ চাওয়ায় এক ব্যক্তির সাথে খারাপ অচরণের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতো গেলো করোনাকালের কথা। আগে পরে নারায়ণগঞ্জের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে পাশে পাওয়া যায়নি তাকে। তিনি হলেন- সিটি মেয়র আইভী।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত বিরোধী আওয়ামী লীগের দলীয় সমাবেশে জোর করেও আনতে পারিনি আইভীকে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সম্প্রতি বলেছেন, নৌকার মেয়র হয়েও দলের জন্য কোন অবদান নেই মেয়র আইভীর। শুধু নির্বাচন এলে দলকে ব্যবহার করেন। নির্বাচন শেষ হলেই দল এবং দলের নেতা-কর্মীদের ভুলে যান। শুরু হয় বিএনপি-জামায়াত প্রীতি। ১৮ বছর ক্ষমতায় থেকে একজন কর্মী তৈরী করতে না পারলেও তৈরী করেছেন কতগুলো দূর্ণীতিবাজ ঠিকাদার। যাদের দ্বারা প্রতিটি কাজের পার্সেন্টেজ হোয়াইট হাউজখ্যাত বাড়ীতে বসে পান।

সর্বশেষ কুমিল্লার ঘটনায় সারাদেশে যখন রেডএলার্ট, তখন দেশের সম্প্রীতি বজায় রাখতে এমপি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন। সহযোগিতা করেছেন প্রশাসন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। প্রশাসনও দিনরাত কাজ করে জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেননি। কিন্তু, তখনও ঘরের ভেতরে বসে ছিলেন সিটি মেয়র আইভী। দেশ, দল বা জনগনের যেকোন দূর্যোগেই তাকে পাওয়া যায়না। একথাটি আরও একবার প্রমাণিত হলো।

দলীয় নেতা-কর্মীরা আরও জানায়, যারা দেশের ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে থাকেনা, তাদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। এমন নেতা-নেত্রী যারা আছেন তাদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে বলতে চাই, অবিলম্বে এদেরকে রাজনীতি থেকে, জনপ্রতিনিধির পদ থেকে বিতাড়িত করে জনদরদী ত্যাগী কাউকে বসানোর জোর দাবি জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধ ুকন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট।

0