‘দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টাই অপরাধ’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘দেবোত্তর সম্পত্তি ৮ একরের উপরে। আমার নানা কিনেছে ৪ একর, বাকি ৫ একর কোথায় গেলো? তাদের কথা কিন্তু কেউ বলে না।’


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এমন মন্তব্যের পর চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে।

তাদের দাবী ‘দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় যোগ্য নয়; আইনে বিধান থাকার পরেও একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন মন্তব্য কারা উচিৎ হয়নি। বরং, ভূল স্বীকার করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়াটাই উত্তম ছিল।’

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নগরী স্থাপনের সময়কালে শ্রী বিকন লাল ঠাকুর শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকায় উপাস্য দেবতা লক্ষীনারায়ণের নাম শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির নামে একটি মন্দির স্থাপন করেন। শত শত বছর ধরে এই মন্দিরটিতে লাখ লাখ হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য একটি পবিত্রতা ও শুদ্ধতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রয়াত বিকন লাল ঠাকুর মন্দিরটির পাশেই পূজা-অর্চনা ও আশপাশের অধিবাসীদের সুবিধার্থে ৪৪০ শতাংশ জায়গা নিয়ে একটি পুকুর খনন করে। যা স্থানীয়দের কাছে জিউশ পুকুর নামে পরিচিত। এই পুকুরটি হিন্দু ধর্মালম্বীরা যেমন পূজা-অর্চনা করছেন ঠিক তেমনি মুসলিম ভাই-বোনেরাও নিজেদের প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। ভূমি জরিপের সিএস (ব্রিটিশ) পর্চায় এই বিশাল সম্পত্তিটি (মন্দরসহ পুকুরের আয়তন ৪.৪ একর) দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত হয়।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা বলেন, ‘মেয়র আইভী বলেছেন, জিউস পুকুরে দেবোত্তর সম্পত্তি নাকি ৮ একরের উপরে। তার নানা কিনেছে ৪ একর, বাকি ৫ একর কোথায় গেলো? তাদের নিয়ে নাকি কথা বলে না। আমরা জানি, দেবোত্তর সম্পত্তি ৪.৪ একর অথাৎ ৪৪০ শতাংশ। মেয়রের মা, ২ ভাই, চাচা, চাচী, নানা, মামারা মিলে তথা কথিত সেবায়েতের কাছ থেকে নাকি ৩৮৩ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি কিনেছেন। তাহলে বাকি যে সম্পত্তি রয়েছে, তিনিই বের করে দিক।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছে, এটাই অপরাধ। কে কত খানি কিনেছে, এটা মুখ্য বিষয় নয়। উনি উনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন, তার পরিবার আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে রেখেছে। অন্য দশ জন দখল করা এক বিষয়, উনি জনপ্রতিনিধি ‘উনারা এমন করবে কেন?’। আমি বলতে চাই ভূল স্বীকার করে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়াটাই উত্তম ছিল। না হলে আমাদের এই আন্দোলন চলবেই।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা জানান, ‘বাংলাদেশের আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় যোগ্য নয়; এটা আমরা সবাই জানি। তারপরেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এখন তার পরিবারের সম্পত্তি টিকিয়ে রাখতে রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি মানুষের মাঝে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।  আমরা দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আপনিতো আমাদেরই জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন স্থানে লেক করেছেন, পার্ক করছেন। আমাদের দাবী, ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুরটিও সংরক্ষন করুন।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘আমি বলতে গেলেতো বারবার মেয়র উল্টাপাল্টা বক্তব্য দেন। আমরা জানি, দেবোত্তর সম্পত্তি ৪.৪ একর, মেয়র কাগজ দিয়ে প্রমান দেখাক ৮ একরের উপরে। মেয়রের মা, ভাই, চাচা, চাচী, নানা ও মামারা ৬টা দলিলের মাধ্যমে ৪.৪ একরের মধ্যে ৩.৮৩ একর জমি আত্মসাৎ করেছেন।’

0