দৌলত মেম্বার খুন হওয়ার নেপথ্যে যা ছিল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় মারামারি, সংঘর্ষ হচ্ছিল গোগনগরে। খুন হতে পারে কেউ; এমন আশঙ্কা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ছিল এলাকাবাসী। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য দৌলত হোসনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করা হলো। 

কেন এই খুন? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ‘ছেলে কাশেম সম্রাট ও তাঁর বন্ধু রানার হামলার পর পাল্টা হামলায় প্রাণ গেছে পিতা দৌলত মেম্বারের’।

পুলিশ বলছেন, ‘দৌলত মেম্বারও হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী ছিলেন।’

তার ছেলে কাশেমের বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা রয়েছে আর বন্ধু রানা কিছু দিন পূর্বে এক নারী ইউপি সদস্যের পায়ে গুলি করেছিল বলে জানান এলাকাবাসী।

অন্যদিকে, রুবেল আহম্মেদ মেম্বার ও তার ভাই রবিনের বিরুদ্ধেও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে আয়ের পথ তৈরি হয় চরসৈয়দপুর এলাকার মানুষের। সেই এলাকাতেই প্রভাব বিস্তার করতেন সাবেক ইউপি সদস্য দৌলত হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। গোগনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুবেল আহম্মেদের নেতৃত্বে বড় ভাই রবিন ও আনসাররা সেখানে গিয়ে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।

চরসৈয়দপুরের হাজ্বী আহম্মদ আলী ডর্কইয়ার্ড ভাড়া নিয়ে গত ২ মাস ব্যবসা পরিচালনা করছেন লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি। সেখানে পুরাতন জাহাজের কিছু লোহা বিক্রির দয়িত্ব পান রুবেল ও রবিনরা। কিছু লোহা বিক্রিও করেদেন। চরসৈয়দপুরের সাইজুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আংশিক লোহা বিক্রি করতে গেলে ২০ জুন রাত ৯টায় রুবেল ও রবিনদের

পক্ষ নিয়ে নিয়ে মাসুদ প্রতিবাদ করেন। তখন মাসুদকে মারধর করেন সাইজুদ্দিনরা। সেখানে উপস্থিত ছিল দৌলত মেম্বারের ছেলে ও রানার লোকজন। মাসুদ ফোন করে নিয়ে যায় রবিন ও হাবিবুর রহমানের এক ব্যক্তিকে। পৌঁছাতেই তাদের উপরও হামলা করা হয়। এরপর রবিন ও হাবিবুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপালে নিয়ে যান। চিকিৎসক দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশদেন।

এ ঘটনায় চাঁদার দাবি ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে দৌলত মেম্বারের ছেলে কাশেম সম্রাট ও রানাসহ অন্তত ১৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন ডর্কইয়ার্ডের মালিক লুৎফর রহমান। (মামলা নং-২৩)

বড় ভাই রবিনের উপর হামলার খবর শুনে সে রাতেই ছোট ভাই রুবেল আহম্মেদ মেম্বার পাল্টা হামলা করেন। সেখানে বাড়ি-ঘরের দরজা ভাঙ্গচুর, দু’টি মোটরবাইকে অগ্নিসংযোগ

দেওয়া হয়। এই ঘটনাতে জলিল নামের আরও এক ব্যক্তি রুবেলসহ ১৩ জনকে আসামী করে পাল্টা মামলা করেছেন।

এদিকে, রবিনের অবস্থা ক্রমাগত আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকার আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়।

২৬ মে রাত ১০টার দিকে কাশেম সম্রাটের বাবা সাবেক মেম্বার দৌলত হোসেন ওরুফে দৌলত মেম্বার অটোরিক্সা যোগে চরসৈয়দপুর এলাকা যাওয়ার পথে রুবেল তার গতিরোধ করে।

দৌলত হোসেনের সাথে রুবেলের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সেখানে লোকজন গিয়ে তাকে লোহার রড, ধারালো ছুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন দৌলত মেম্বারকে গুরুত্ব আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনিচুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দৌলত মেম্বারের ছেলে কাশেমের সাথে রুবেলের বিরোধ ছিলো। দৌলত যাওযার পথে বাকবিতন্ডায় এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত দৌলতের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজর আলী জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। থানা পুলিশকেও আমি একই কথা বলিছি।