নারী পাচারের অভিযোগে ৫জন আটক, উদ্ধার ২ তরুণী

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে নারী পাচারকারীদের কবলে পড়ে ভারতের সিমানায় চলে যায় এক নারী। পরে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে তিনি। এরপর বর্ডার থেকে নারায়ণগঞ্জ এসে র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অভিযুক্ত ওই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি বাতানপাড়া (মসজিদ রোড) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা পাচারকারী দলের ৫জন নারী ও ১জন পুরুষকে আটক করে র‌্যাব-১১। এ সময় আরও ১ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীসহ ২জন ভুক্তভোগীকে আটক করে র‌্যাব।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) র‌্যাব-১১ প্রধান কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসকল তথ্য জানান র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা।

আটককৃতরা হলো, মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান ডাইনাপাড়া তোফাজ্জল হোসেন ইরানের স্ত্রী ঝুমা আক্তার (২৮), একই জেলার হিল্লাপাড়া এলাকার রিপন শেখ’র স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৯), আড়াইহাজার উপজেলার রহমান মিয়ার স্ত্রী মিনারা ওরফে রিনা(৩৫), সিদ্ধিরগঞ্জ বিক্রমপু এলাকার মৃত রাজ্জাক মিস্ত্রির ছেলে শাহজামাল(৪০), চাঁদপুর ফরিদগঞ্জের চরচন্না এলাকার শাহজামালের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (২৭) ও সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি এলাকার মৃত শহীদুলের স্ত্রী কমলি খাতুন ওরফে সিমা(৩২)।

র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪চায় ভুক্তভোগী এক নারী সশরীরে র‌্যাব-১১, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। একদল মানব পাচারকারী সদস্য তাকে বিউটি পার্লারে কাজ যোগাড় করে দেয়ার কথা বলে যশোর বেনাপোল বর্ডারে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে পার্শবর্তী দেশে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য বললে তিনি বুঝতে পারে যে, তাকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করা হচ্ছে। তিনি যেতে রাজি না হলে পাচারকারীরা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে সে কৌশলে পালিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তিনি বাসে করে যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ পেয়ে ভিকটিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি বাতানপাড়া (মসজিদ রোড) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, ৫ জন নারী ও ১ জন পুরুষ (নারী পাচারকারী সদস্যকে) আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাচারের কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মোবাইল, ভিকটিমের ডেবিট কার্ড ও টাকা রাখার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, ২ জন নারী ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে ১ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তাদেরকেও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের জন্য পাচারকারী চক্রটি ওই স্থানে নিয়ে আসে এবং এদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী ভিকটিমকে বৃহস্পতিবার রাতেই পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল।

তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আটকরকৃত মানব পাচারকারীগণকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত সহজ-সরল অভাবি নারীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে আসছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। অত্র মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্ঠা চলমান রয়েছে। আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ মামলা রুজু ও আসামীগণকে হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।