‘না.গঞ্জে অনেক খুনিদের আস্ফালন দেখছি’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক খুনিদের আস্ফালন দেখছি। যারা নারায়ণগঞ্জে কিছু বড় নেতার হওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জে খুনের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিলো। খুনের রাজত্ব আমাদের দলে বাদ দেন বিএনপির নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের ভাইকে হত্যা করা হয়েছিলো সাব্বিরকে। কারণ, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। দিনে দুপুরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো। এটা নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে।

রোববার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদে নব—নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্বগ্রহণ ও প্রথম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ক্ষমতার কাছেও আসতে পারবেন না। আপনারা এটা মাথায় রাখবেন। আপনারা (বিএনপি) বলবেন আমরা তাহলে কি করতাছি? আপনারা আপনাদের লন্ডনের পলাতক নেতার নির্দেশে মাঠে লাফাচ্ছেন লাফান। আপনারা হচ্ছেন রুটির দোকানের তাওয়া আপনাদের গরম মারে। আপনাদের তাওয়ার উপর অন্য মানুষের খেলবে যারা জীবনে কোনো সময় নির্বাচনে পাশ করতে পারবেন না। বিএনপি ২০১৩—২০১৫ পর্যন্ত তিন হাজার ৫৫২টি গাড়ি পুড়িয়েছে। ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ৩—৪ মাস বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হবে। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে সবাইকে ভুগতে হবে। ওরা মরদেহ চাচ্ছে। যে তিনটা জায়গাকে টার্গেট করা হয়েছে তার মধ্যে নাম্বার ওয়ানে আছে নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখন রাজনীতি করতে হবে আওয়ামী লীগের জন্য। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সম্পদ। তাকে হারালে বাংলাদেশ পথ হারাবে। এ পথ খুঁজে পাওয়া বড় মুশকিল হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশকে রক্ষা করুন, দেশের মানুষকে রক্ষা করুন। এজন্য প্রস্তুতি নিন। সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে খেলায় যেন জিততে পারি। সারা দুনিয়ায় আজ সংকট। সেখানে শেখ হাসিনা এ দেশকে ধরে রেখেছেন।

আমি নিজে এমপি হয়ে যত খুশি হয়েছি তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি চন্দন শীল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন এ কারণে। আমি একা খুশি হইনি, চন্দন শীল এই পদটি পাওয়ার পর পার্লামেন্টে আমরা ৪০/৫০ জন মেম্বার ছিলাম, আমার ভাই লিয়াকত হোসেন খোকাও উনাদের লবি ছেড়ে আমাদের সাথে এসেছেন। সেদিন সরকারি দল ও বিরোধী দলের সবাই একটা কথাই বলেছিলেন যে, জেলা পরিষদের ২টা মনোনয়ন নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। তার একটা আপনার এলাকার চন্দন শীল আরও একটা হলো নেত্রকোনার সজল দা।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে আমি জখন প্রথম জেল খাটতে গিয়েছিলাম, তখন সজল দা’র সাথে ছিলাম। আমার বয়স তখন ১৭ থেকে ১৮ হবে আর উনার বয়স ২৪ বা ২৫।

এমপি বলেন, আমার ভাইয়ের নেতৃত্বে উনারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে ভারতে গিয়েছিলেন। তবে উনারা বাংলাদেশেই ধরা পড়ে গিয়েছিলেন। তখন বিশ্বজিৎ বন্দির ফাঁসির আদেশ হয়েছে আর এই বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেগুলো জাবদজীবন হয়েছিল। তখন জেল খানায় উনারা আমাকে দেখে রাখতেন। তখন আমি উনাদের মধ্যে কোন আফসোস দেখি নাই।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ—৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, জেলা পরিষদের নব—নির্বাচিত সদস্য—কর্মকর্তারা, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা।