না.গঞ্জে আইনজীবী-পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাম্পত্য কাহিনী

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর এবার আইনজীবী স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ পরিদর্শক মো: আবু নকীব। এছাড়া সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও জেলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। ফলে আইনজীবী ও পুলিশের দাম্পত্য জীবনের অনেক ঘটনা বেরিয়ে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদ গত ৪ মার্চ তার সাবেক স্বামী পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীবের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ১৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ আদালতে আবু নকীব আসলে সেখানে তাকে আবারো মারধর করার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সন্তান জন্মদানে অক্ষম জেনেও স্বামী মোঃ নকীব স্ত্রী জাসমিন আহমেদের সাথে ২০০৭ সালের ১৪ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রী জাসমিনকে অত্যাচার করতে থাকেন স্বামী নকীব। একপর্যায়ে নিজের বিবাহ ও সংসার জীবন সুখে শান্তিতে কাটানোর জন্য স্বামী আবু নকীবকে ১২ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার, ১টি মোটরসাইকেল এবং ঢাকায় জমি কেনার জন্য নগদ ৫০ লাখ টাকা দেন জাসমিন।
তবে পুলিশ পরিদর্শক তার সাবেক স্ত্রী জাসামিনের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল ফতুল্লা থানায় জিডি নং ১৪৫ এবং ৪ এপ্রিল পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । এছাড়া ৮ এপ্রিল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব উল্লেখ করেন, সংসার জীবনে বোঝাপড়া না হওয়া আইন মেনেই গত ১৫ জানুয়ারি আমার সাবেক স্ত্রীর জাসমিনের সাথে সাথে বৈবাহিক সর্ম্পকের অবসান হয়। কিন্তু তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে গত ৪ মার্চ আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার খোজ নিতে ১৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ আদালতে গেলে আমার সাবেক স্ত্রী তার লোকজন নিয়ে আমার প্রতি উদ্যত্ত হয়ে আমাকে নাজেহালের চেষ্টা করে। আমি নিজের সম্মানের দিকে তাকিয়ে আদালত অঙ্গন ত্যাগ করি। কিন্তু ঐদিন আরো একটা মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমার সাবেক স্ত্রী আরেকটা মামলা দায়ের করে। একজন আইনজীবী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আমার সাবেক স্ত্রীর এহেন কর্মকান্ডে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আইনজীবী হওয়ায় বিভিন্নভাবে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে।
পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব জানান, আইন অনুযায়ী সবারই আইনী সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে কিন্ত আমার সাবেক স্ত্রী হংকার দিয়ে বলেন, আমার পক্ষে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে কোন আইনজীবী দাঁড়াবেন না। এটা আইনের লঙ্ঘন। আমি পুরো ঘটনা পুলিশ সুপারকে লিখিত জানিয়েছি । থানায় জিডি করেছি। জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে লিখিত জানিয়েছি। তিনি বলেন, আদালত অঙ্গন সবার জন্য সমান। এখানে বাদী বিবাদী সবাই ন্যয় বিচার আশা করে। কিন্ত আমার সাবেক স্ত্রীর ঔদ্ধাত্ব এবং হংকারে আমি সত্যিই মর্মাহত । তিনি শুধু আমাকে হয়রানি করছে না আমার পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করছে।