না.গঞ্জে কমরেড জাহেদুল হক মিলুর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জাহেদুল হক মিলুর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকাল ৫ টায় ২ নং রেল গেইটস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জেলার সংগঠক প্রদীপ সরকার।

কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, কমরেড জাহেদুল হক মিলু ছিলেন আজীবন বিপ্লবী। তিনি আমৃত্যু এ দেশের শোষিত নিপীড়িত বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৩ মে ২০১৮ সালে সাংগঠনিক কাজে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ জুন ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বলেন, কমরেড মিলু স্কুল জীবন থেকেই রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত হন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ বারে ৪ বছর জেল খাটেন। তিনি ছিলেন প্রচার বিমুখ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন। শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি ছিল তার গভীর দরদবোধ। পুঁজিবাদী ভোগবাদী সাম্প্রদায়িক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছিলেন সদাই রাজপথে সোচ্চার। সুবিধার
জীবনের হাতছানি থেকে মুক্ত থেকে তিনি শ্রমিকের মুক্তি লক্ষ্যে আদর্শভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

কমরেড রতন বলেন, করোনাকালে ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। এসময়ে দ্রব্যমূল্যের বিবেচনায় শ্রমিকের আয় এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এসময়ে দেশে আড়াই কোটি লোক নতুন দ্ররিদ্র হয়েছে। বাজেট ঘোষণা হয়েছে কিন্তু করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবীদের খাদ্য ও নগদ সহায়তার কোন প্রণোদনা নেই। শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, চিকিৎসা পেনসন ইত্যাদির জন্যও কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রম আইনের দুর্বলতা ও মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শ্রমিকরা তাদের আইনগত অধিকার ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা থেকে বঞ্চিত। আজকে দরকার বিপ্লবীধারার আদর্শভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন। কমরেড মিলু ছিলেন আমাদের সামনে আদর্শভিত্তিক শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রণী নেতা। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কমরেড মিলুর জীবন ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নেয়া খুবই প্রয়োজন।

0