না.গঞ্জে ৯দিনে ৬ ধর্ষণ: ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচতে মসজিদে আশ্রয়!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে বেড়েছে ধর্ষনের ঘটনা। কোনভাবেই এই পৈশাচিকতার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। গত ৭ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষন থেকে বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। তবে যে তরুনী দৌড়ে পালিয়েছে তার বান্ধবী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।
১৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে উপজেলার রূপসীর বৈশাখী মেলা শেষে বাড়ীতে ফেরার পথে গার্মেন্টকর্মী (১৫) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা তার বান্ধবী (১৩) দৌড়ে পালিয়ে পাশ্ববর্তী মসজিদে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন ধর্ষককে আটক করেছে।

রূপগঞ্জ থানার এসআই নাজিম উদ্দিন আটককৃত ধর্ষকদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, রোববার (১৪ এপ্রিল) রাতে ওই দুই গার্মেন্টসকর্মী রূপসী এলাকা থেকে বৈশাখী মেলা শেষ করে বরপা বাগানবাড়ি এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় ফিরছিলো। পথিমধ্যে আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা ৭ বখাটে তাদের পথরোধ করে তুলে নেয়। পরে একজনকে রূপসী প্রধান বাড়ি সংলগ্ন বালুর মাঠে নিয়ে ৬ বখাটে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। আরেক গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে দৌড়ে পাশ্ববর্তী মসজিদের ছাদে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। এদিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে তিন ধর্ষককে আটক করেছে। বাকী তিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে এসে গণধর্ষনের শিকার হয় এক তরুনী । ঐ দিন সানারপাড় এলাকা থেকে মাহমদপুর বৈশাখী মেলায় আসে। পরে তার বান্ধবী রহিমার বাসায় বেড়াতে আসে। রাতে সানারপাড় ফিরে যাওয়ার সময় রহিমার দেবরসহ তিন জন মিলে বাড়ির ছাদে নিয়ে ঐ তরুনীকে ধর্ষন করে। এঘটনায় মামলা হলে আলামিন নামের একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার প্রভাকরদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ১১ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটলেও ১৪ এপ্রিল রোববার রাতে পুলিশ ধর্ষক লিটনকে আটক করেছে।

আড়াইহাজার থানার এস আই ফায়জুর রহমান জানান, ১১ এপ্রিল প্রভাকরদী গ্রামের তোতার মিয়ার ছেলে বখাটে লিটন ১৪ বছরের কিশোরীকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাশ্ববর্তী একটি পরিত্যাক্ত গরুর খামারে নিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ধর্ষিতার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মিমাংসা করার চেষ্টা করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষক লিটনকে গ্রেফতার করে।

৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চিকিৎসা করাতে এসে কবিরাজের হাতে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক লাল চাঁন বাবুকে (৫১) গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব -১ এর একটি দল।

কোম্পানী কমান্ডার সুজয় সরকারের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,রাজধানী এক গৃহবধূ তার খালাতো ভাই ও ভাবীর সাথে তার পারিবারিক সমস্যা জনিত দাম্পত্য কলহ সমাধানের চিকিৎসার জন্য রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের কেয়ারীয়া এলাকার কবিরাজ লাল চাঁন বাবুর বাড়িতে আসেন। গৃহবধূর সমস্যার কথা শুনে কবিরাজ চিকিৎসা বাবদ চল্লিশ হাজার টাকা দাবী করলে বিশ হাজার টাকায় রফা হয় এবং গৃহবধূকে তার বাড়ীতে রেখে যেতে বলে। এসময় গৃহবধুকে তার খালাতো ভাই তার স্ত্রী সহ সেখানে রেখে চলে যায়।

পরে চিকিৎসার কথা বলে কবিরাজ গৃহবধূকে ঘরের ভিতর রেখে খালাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজার খিল এটে দেয়। এসময় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে গৃহবধূকে অর্ধ অচেতন করে কবিরাজ ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গৃহবধূর খালাতো ভাই ধর্ষণের অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব -১ এর একটি অভিধানিক দল গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানাধীন বক্তারপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকা থেকে ধর্ষক লাল চাঁন বাবু কবিরাজকে গ্রেফতার করে।

৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই কিশোরীকে ধর্ষকের সাথে বাল্য বিয়ে করানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্ষক, কাজীর সহকারীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকার আরিফুর রহমানের ভাড়াটিয়া ওই কিশোরী (১৪) ছাদে কাপড় রোদ দিতে যায়। এসময় ওই কিশোরীকে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া নাসির মিয়া তাকে তার রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীর পরিবার থানায় মামলা করতে উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কিশোরীর পরিবারকে চাপ দেয়।
তারা ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে রাতে ওই এলাকার কাজীর সহকারী ফিরোজ আলমকে এনে ওই কিশোরীকে নাসিরের সঙ্গে জোরপূর্বক বাল্য বিয়ে পড়ানোর উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি এলাকার লোকজন জানতে পেরে পুলিশ খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ধর্ষকসহ প্রভাবশালীদের আটক করে।

৮ এপ্রিলনারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে চলন্তবাসে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের চেষ্টাকারী সহ গাড়ির চালক ও হেলপারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার দশম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী সন্ধ্যার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় মৌচাক থেকে শিমরাইল মোড় যাওয়ার জন্য রজনীগন্ধা পরিবহনে ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-১৮৪৯নং বাসে উঠে। বাসটি মহাসড়কের শিমরাইল ইউটার্ন (ডাচবাংলা ব্যাংক) এলাকায় সকল যাত্রীরা নেমে যায়। এসময় মেয়েটি শিমরাইল মোড়ের ফুটওভার ব্রীজের নামার জন্য বাসের হেলপারকে বলে। এসময় সোলেমান (২২) নামে যুবক মেয়ে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

ওই আত্মচিৎকার করতে চাইলে মেয়েটির গলা টিপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সোলেমান। এসময় গাড়ি কাঁচপুর সেতুর নিচে নিয়ে গেলে মেয়ের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ধর্ষণের চেষ্টাকারী সোলেমান, গাড়ির চালক হাবিবুর রহমান (৪২) ও হেলপার জয়কে (২৩) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ রজনীগন্ধা পরিবহনের ঐ বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।