নিতাইগঞ্জে কুমারী পূজায় কালসন্দর্ভা রূপে শ্রেয়া চক্রবর্তী

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দূর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অষ্টমী পূজা। আর এ পূজার মূল আকর্ষন কুমারী পূজা ও অঞ্জলী। করোনার কারনে দু্ই বছর বন্ধ থাকার পর সোমবার (৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পরিতোষ কান্তি সাহার পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই কুমারী পূজা। আর এই পুজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই হিন্দু ভক্তরা ভির করে মন্ডপে। পরে ঝমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মহাষ্টমীর পূজা শুরু হয় এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা।

কুমারী পূজায় বিভিন্ন বয়সের কন্যাকে বিভিন্ন নামে পূজা করা হয়। এবার পরিতোষ কান্তি সাহার পূজা মন্ডপে ৯ বছরের কন্যা শ্রেয়া চক্রবর্তীকে দিয়ে কুমারী পূজা করা হয়েছে। বয়স অনুসারে তার নাম হয়েছে কালসন্দর্ভা।

পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন,  শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি প্রধান ও সর্বশেষ্ঠ  উৎসব । এ উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একার নয়, মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকলের সহযোগিতায় এই উৎসব পালন করব ।  আজ মহা অষ্টমী তিথিতে আমরা সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছি কুমারী পূজা হবে । আজকে আমরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করব দেশের ও জাতির মঙ্গলের জন্য।

জানা যায়, ১৯০১ সালে ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম ৯ জন কুমারীকে পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে। অসুরকে বধ করতে এই পূজা করা হয়। ষোলো বছরের কম রয়স্কা কোন কুমারী বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করার রীতি আছে। বৃহদ্ধর্মপুরাণে আছে দেবী অম্বিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হয়ে বেলগাছে দেবীর বোধন করতে নির্দেশ দেন। তৈত্তিরীয় আরণ্যকে দেবীকে কুমারী নামে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষত দুর্গাপূজার অঙ্গরূপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার আগ পর্যন্ত কুমারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়। এ ছাড়া নির্বাচিত কুমারী পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন আচার-অনুষ্ঠান করতে পারে। আজ অষ্টমীর দিনে অনেক মানুষ পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেবী দূর্গা কে নিজের মনের ইচ্ছা জানান। এই দিন চামুন্ডা রূপে দেবী দূর্গা কে পুজো করা হয়। এরপর সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে এবং সমাপন বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটের মধ্যে।

মহাষ্টমীতে ভক্তদের ব্যপক সমাগম দেখা যায়। তাদের মাঝে অন্যরকম উৎসবের আমেজ কাজ করছে। তারা অঞ্জলীর মধ্য দিয়ে দেবীর দূর্গার কাছে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি কামনা করছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার দূর্গা পূজা শান্তিপূর্নভাবে পালন করতে তিনস্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ সদস্য সহ আনসার ও সেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে। সেই সাথে প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক লাগানো হয়েছে।

এই মহাঅষ্টমী হল দূর্গা পূজার মধ্যে একটি অন্যতম সেরা দিন । আগামীকাল মহা নবমী এবং আগামী ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দূর্গোৎসব।

, , ,