নিত্যপণ্যের অগ্নি মূ‌ল্যে বিপাকে ক্রেতারা, আসছে রমজান ও লকডাউন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সামনে আসছে রমজান উপর দিয়ে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ১ সপ্তাহের লকডাউন তাই নিত্য পন্যের চাহিদা যেন আকাশ ছোয়া। প্রয়োজনিয় পন্য ক্রয় করতে উর্ধমুখি করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাজারে দেখা গেছে ক্রেতাদের লক্ষনীয় উপস্থিতি।

শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সারেজমিনে নারায়ণগঞ্জের দিগুবাবুর বাজারে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেলো। কিন্তু এরই মধ্যে বেড়ে গেছে কাচা বাজারের দাম। দিগুবাবুর বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, রমজানকে সামনে রেখে একধরনের অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা কিছু কিছু সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পরছে খুচরা ক্রেতাদের ওপর।

দিগুবাবুর বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা বাড়তি আগের মতোই। তবে আগের থেকে সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে অনেক সবজি পাওয়া গেলেও এখন তা ৪০-৫০ টাকা। তেল, মুরগি, পেঁয়াজসহ ফলের দামও বেড়েছে।

বাজারে একজন খুচরা বিক্রেতা হোসেন বলেন, শীতের সিজন শেষ তাই সবজির দাম একটু বাড়বেই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ কমছিল। সামনে রমজান আসছে আবার পরশুদিন থেকে নাকি আবার লকডাউন তাই এখন কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে এখন বাজারে কোনো সবজির অভাব নেই। আড়তে গেলেই পছন্দমত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে দেখা যায়, কাঁচা কলা হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি কাঁচা কেজি পেঁপে ৩০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মটরশুঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় যেমন বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

প্রতিকেজি শিম ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, গাজর ২০ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জামতলা থেকে আসা এক ক্রেতা জানান, করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই আয় কমে গেছে। সামনে রোজা আসছে পাশাপাশি ৫ তারিখ থেকে নাকি লকডাউন শুরু হবে, তাই কিছু দিনের বাজার এক সাথে করতে আসলাম। কিন্তু এখানে বেশির ভাগ সবজির দাম কিছু দিন পুর্বের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। কেজিতে ৩০ টাকা দাম কমে প্রতিকেজি কক মুরগি ৩২০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। আর লেয়ার মুরগি প্রতিকেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে অপরিবর্তিত আছে খাসি ও গরুর মাংসের দাম। ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে খাসি, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা কেজি।

বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। প্রতিকেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট ৬১ থেকে ৭০ টাকা, নাজির ৬০ থেকে ৭০ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা ও পোলাওয়ের চাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। খোলা ভোজ্যতেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা ও সরিষার তেল বিক্র হচ্ছে কেজিতে ১৮০ টাকা।

0