‘পদ্মা সেতুর গাড়ি চাষাঢ়া হয়ে গেলে কমবে ঢাকার যানজট’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পদ্মা সেতুর কাজ আগামী বছর দেড়েকের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেতুর দুই প্রান্তে ঢাকার দোলাইরপাড় থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ। কিন্তু রাজধানীর দুর্গম যানজট অতিক্রম করা ছাড়া অন্য মহাসড়কের যানবাহন এই এক্সপ্রেসওয়েতে যাওয়ার সুযোগ নেই। 
তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ দুর্ভোগে পড়ার শঙ্কা থাকবে না।

তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) জানিয়েছে, এখনই শুরু করা গেলেও কমপক্ষে চার বছর লাগবে ইনার সার্কুলার রুটের গাবতলী থেকে কদমতলী অংশের কাজ শেষ করতে। এ অংশ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ককে কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে যুক্ত করবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে। রাজধানীর পশ্চিম প্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ধরে গাবতলী থেকে বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট হয়ে কদমতলী অংশে সড়ক নির্মাণের পর উত্তরবঙ্গের গাড়ি শহরে প্রবেশ না করেই পদ্মা সেতুতে যেতে পারবে। গাবতলী থেকে চলা বাসগুলোও একই সুবিধা পাবে।

সওজ জানিয়েছে, ঢাকা শহর ঘিরে ৮৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ইনার সার্কুলার রুট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দুটি ভাগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ইনার সার্কুলার রুট ফেজ-১-এর আওতায় আবদুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল, বেরাইদ, ডেমরা পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে নতুন করে এই অংশে সড়ক নির্মাণ করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ।

অন্যদিকে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আবদুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া, শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত ৬৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে ইনার সার্কুলার রুট ফেজ-২-এর আওতায়। এখানে আগে থেকেই সড়ক আছে, যা প্রশস্ত করতে হবে। তবে সাকল্যে সড়ক নির্মাণ করতে হবে ৪৭ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। কারণ তেঘরিয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের অংশ। আবদুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার পথ সেতু কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায়। অবশিষ্ট ৪৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ১২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সওজ।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু হচ্ছে, কিন্তু সেতুতে গাড়ি কীভাবে যাবে তার পথ করা হয়নি। অথচ আরএসটিপি অনুসরণ করে সার্কুলার রুটগুলো করলে আজ এ সমস্যা হতো না।

0