‘পদ্মা সেতু ইতিহাসের অমর কাব্য’

এড. খোকস সাহা: সব বাঁধা পেরিয়ে স্বপ্নের পদ্মাসেতু’র উদ্বোধন হবে ২৫ই জুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সাহসী এবং দৃঢ় বাস্তবরূপ হলো এই পদ্মাসেতু বাঙালির চিরায়ত নদী প্রাকৃতিক ভূ-খন্ড জলরেখা’র দ্বারা নানা প্রান্তে বিভাজিত যার দরুণ সারা বাংলাদেশ এক সময় ছিলো পুরোপুরিই ভূ প্রাকৃতিক কারণে দূরভূতম এক স্বাধীন দেশের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সুদীর্ঘকালীন সেইরূপটা বিগত দেড় যুগে সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে থাকে। আর এটি করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর প্রায় দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে ক্রমশঃ বাংলাদেশের আন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব নিরবচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করার প্রয়াস চলতে থাকে। যার স্বপ্নীল প্রতিবিম্ব হলো স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

নানা সমস্যা সংকট কাটিয়ে আগামী ২৫ জুন জননেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এই পদ্মাসেতু উদ্বোধন করে দক্ষিণ বঙ্গকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে একীভূত করে এক অসম্ভব স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করবেন। এই রূপায়নের ফলে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক চিত্রটি যে বদলে যাবে। তারই আভাস দিয়েছেন দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই। একটি জাতির স্বপ্নপুরণের, একটি জাতির আকাঙ্ক্ষার রঙিন দিগন্তকে দৃশ্যকল্পের মধ্যে নিয়ে আসার যে গল্পটি গত সাত বছর ধরে ধীরে ধীরে ডানা মেলতে শুরু করে আজ উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। সেই প্রহর গোনার উত্তেজনা, আবেগে সমগ্র বাঙালি জাতি আজ উদ্গ্রীব হয়ে আছে কখন, কবে আসবে সেই শুভক্ষণ। যে শুভক্ষণটি বাংলাদেশেকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্যরূপে উদ্ভাসিত করবে।

হ্যাঁ, খুব দূরে নয়। এই শুভক্ষণটি সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর বাস্তবায়নের ছবিটি বাংলার রূপালী ক্যানভাসে আঁকা হয়ে গিয়ে ক্ষণ গণনা শুরু করেছে। বিস্ময়ের এক অপূর্ব নাম পদ্মাসেতু। কল্পনারই বাইরে থাকা এক বিশাল অর্থ ও কর্মযজ্ঞের মহাপ্রকল্প হলো পদ্মাসেতু। আজ এই পদ্মা সেতুকে ঘিরে দক্ষিণবঙ্গে চলছে এক উৎসবী আমেজ।

দীর্ঘ কালের কষ্টের অবসান ঘটতে যাওয়া এক চালচিত্রের নাম হলো পদ্মা সেতু। যে পদ্মা পাড়ি দিতে গিয়ে অসহনীয় বিড়ম্বনা ও কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন দিনের পর দিন পদ্মার ওপারের মানুষ সেই বিড়ম্বনা ও কষ্টকে এক সাহসী পদক্ষেপ দিয়েছে হাওয়ায় উড়িয়ে। ইতিহাসের পাতায়, স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হবে এই স্বপ্নের পদ্মাসেতু’র নাম। যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে বাংলার এক মহিয়সী জাতিরজনক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

ঐতিহাসিক এই ঘটনার পূর্বাপর অনেক কিছুই আজ সকলের মানসপটে ভেসে উঠছে। অমর ইতিহাসে যদি স্বাধীনতা লাভের পর বিশাল কিছু বাঙালি জাতি অর্জন করে থাকে। সেটি হলো পদ্মাসেতু। পাখি নয় নিজের চোখেই, খুব কাছ থেকে দেখা ও ছোঁয়া যাবে যে স্বপ্নের আকাশ- তার নাম পদ্মাসেতু।

২০১৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর থেকে নিরন্তর এই পদ্মাসেতু বহুমুখী প্রকল্পের কাজ চলতে থাকে। এই পদ্মাসেতুর ওপরের অংশে রয়েছে পীচঢালা পথ। আর নীচের অংশে রয়েছে রেলসেতু। সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাও থাকছে। থাকছে দু’ধরনের লাইটিঙের ব্যবস্থা। যে লাইট পোষ্টের সাধারণ আলোয় রাতের পদ্মাসেতু হয়ে উঠবে মোহনীয়। আর জাতীয় দিবসেও থাকবে পদ্মাসেতুকে আলোকিত করার রঙিন আলোকপুঞ্জ। রঙিন বাতিতে সেই সব জাতীয় দিবসে পদ্মাসেতু হয়ে উঠবে আরো নান্দনিক এবং আকর্ষণীয়। প্রমত্তা পদ্মার বুকে এক অন্তহীন আস্থা আর চ্যালেঞ্জের শিরোনাম হলো স্বপ্নের পদ্মাসেতু। নদী শাসন, পূর্ণবাসন দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে রেললাইন স্থাপনাসহ বিশাল এক কর্মযজ্ঞ তথা মেগা প্রকল্প আজ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। এ যেনো এক ইতিহাসের অমরকাব্য। যা ছিলো সত্যিই অকল্পনীয়। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই প্রবল আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তায় সম্ভব করে তুলেছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় সভাপতি, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লেখক: এড. খোকন সাহা, সাধারণ সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ।