পূজোয় মার্কেট জমজমাট, ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বাঙালী সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গা মায়ের আগমনে নতুন সাজে সজ্জিত হয় হিন্দু ধর্মলম্বীরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। নিজেদের বর্ণিলভাবে রাঙাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ অভিজাত শপিংমলগুলো চষে বেড়াচ্ছে। পরিবার ও নিজের জন্য পছন্দের পোষাক কিনতে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। এতে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ব্যবসায়ীরাও।

রবিবার (২ অক্টোবর) শহরের চাষাঢ়া হক প্লাজা, সান্তনা মার্কেট, সমবায় মার্কেট, কালির বাজারে ফ্রেন্ডস মার্কেট, ডিআইটি মার্কেটসহ প্রসিদ্ধ বিপনী বিতান ঘুরে দেখা যায়, পূজায় নতুন জামা কাপড় কিনতে সর্বত্র লেগেছে কেনাকাটার ধুম। নতুন কাপড়ের সাথে সাথে জুতার দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়। পূজোর বেচা কেনার শেষ দিনেও ব্যস্ত হচ্ছেন দোকানীরা। বর্তমানে শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর মার্কেটগুলো।

এবারের পূজোর বাজারে মহিলাদের জামদানী শাড়ি, বুটিকস শাড়ি, বেনারসি শাড়ি, হ্যান্ড প্রিন্ট শাড়ি, রাজশাহী কটন শাড়ি, টাঙ্গাইলের কটন শাড়ি, মাসলাইস কটন শাড়ি, কাতান শাড়ি, মেয়েদের থ্রী পিস, সেলোয়ার-কামিজ, ফতোয়া, স্কার্ট-টপস, ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, লং ও শর্ট পাঞ্জাবি, ফতোয়া, শার্ট, জিন্স ও টি-শার্টসহ বাচ্চাদের নানা রঙ ও ডিজাইনের পোশাকের সমাহার ঘটেছে বিভিন্ন পোশাক বিপণীতে।

শহরেরে সমবায় মার্কেটের বস্ত্র বিপনীর কর্ণধার আমিরুল ইসলাম জানান, এবার পূজোয় আমাদের বেচা কেনা অনেকটা ভালো। বিগত বছরের থেকে এবারের চাপ বেশী। ক্রেতার ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

একই মার্কেটের কর্মচারি শুভ জানান, পূজা উপলক্ষে স্কার্ট-টপস, থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে। করোনার আগের বছরগুলোর মতোই ১০ দিন আগে থেকেই পূজোর বাজার জমে উঠেছে।

পূজোর বাজারের শেষ দিন সপ্তমী পূজায়, কারণ এই সময় থেকেই নতুন পোষাকে দেখা মিলে হিন্দু ধর্মালম্বীদের। তরুন তরুনীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এদিনে নতুন কাপড় পরে, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন। দ্রব্য মূল্য উর্ধগতি হলেও পূজোর কেনা কাটায় কোন কমতি রাখেনি ক্রেতারা।

শহরে ডিআইটি মার্কেটের বস্ত্র বিপনীর কর্ণধার মো. সেলিম মিয়া লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এখন গরম যেমন আছে, তেমনি বৃষ্টির আসা-যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ভালো পণ্য আর সুলভ মূল্যকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এবার আমাদের পূজায় বেচা কেনা অনেকটা ভালো। আগের থেকে তুলনামূলক অনেক ভালো আমাদের অবস্থা। মানুষ সেচ্ছায় অনেক কেনাকাটা করছে।

এদিকে, পরিবার নিয়ে বাজার করতে আসা রিংকু রাণী দাস জানান, কয়েকদিন আগ থেকে বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটার প্রস্তুতি ছিলো। বছরে একবার পূজা আসে তাই ভয়কে উপেক্ষা করে পরিবারের বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। বাচ্চাদের জামাকাপড় কেনা শেষ হলে পরিবারের বড় সদস্যদের কেনাকাটা করবো।

মৌ দাস নামে আরেক ক্রেতা জানান, এবারে পূজো আমাদের জন্য অনেক আনন্দ দায়ক। কারণ করোনার একটা দীর্ঘসময় পার করে এবার আমরা ভয়কে জয় করে দুর্গোৎসব পালন করছি। পূজোয় কেনাকাটা অনেকটা কিনে ফেলেছি। এবার বাজারে পণ্যর দাম কিছুটা বেশী। তাই বলে তো আর পূজোর মজা নষ্ট করতে পারি না।

কালির বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জানান, এবারের পূজায় জামা কাপড়ের দাম একটু বেশী। তবুও ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। করোনার আগের যেমন ছিলো ঠিক তেমনটাই পাচ্ছি এবার। আশা করি আমরা সচেতন হলে সামনে আরও ভালো পূজোৎসব পালন করবো।

, , , ,