প্রতিবন্ধীদের ক্ষুদ্র ব্যবসার উপকরণ দিলেন সদর ইউএনও

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধীদের যেন রাস্তায় ভিক্ষা করতে না হয়। তারা যেন স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিৎ। সাধারন মানুষ যেভাবে কাজ করছে প্রতিবন্ধীরাও যেন সকলের সহযোগিতা নিয়ে দেশ ও জাতির জন্য সেভাবে কাজ করতে পারেন। প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা মনে না করে তাদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে হবে। তারাও কোন মায়ের সন্তান’

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার মিলনায়তনের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষুদ্র ব্যবসার উদ্বুদ্ধ করতে উপকরণী সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সকলের উদ্দেশ্যে নাহিদা বারিক বলেন, অন্যকে ছোট করে নিজে বড় হওয়ার মন-মানসিকতা পাল্টাতে হবে। একজন প্রতিবন্ধীকে ছোট করে দেখে নিজেকে বড় হওয়ার কোন সুযোগ নাই। আপনারা আপনার একজন সুস্থ্য সন্তানকে যতটুকু খেয়াল করবেন তার চেয়ে দ্বি-গুন খেয়াল করতে হবে প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি। সমাজের বিত্তবানরা যদি প্রতিবন্ধীদের প্রতি একটু সু-নজর দেন তাহলে তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না। আর প্রতিবন্ধীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন সবর্দা পাশে থাকবে।

এ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মো: লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিবন্ধী সেবা সহায়তা কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা ইয়াছমিন, বাংলাদেশ এনজিও’স নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক প্রদীপ কুমার দাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ জন প্রতিবন্ধীকে ক্ষুদ্র ব্যবসার উপকরণ বিতরণ করা হয়। এদের মধ্যে ৭জনকে চায়ের দোকানের সামগ্রী দেয়া হয়। সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম: চুলাসহ সিলিন্ডার, চায়ের কেতলি, বালতি, চা-পাতা, চিনি, ডাল বাজা, বিস্কুট, মটর বাজার। এছাড়া ২ জনকে দুটি ভ্যান গাড়ি দেয়া হয়। আর ৩ জনকে চটপটির দোকানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়অ হয়। সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম: এক বস্তা আলু, এক বস্তা পিয়াইজ, ফুচকা ইত্যাদি।

এদিকে বিনা মূল্যে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সামগ্রী পেয়ে প্রতিবন্ধীরা খুবই আনন্দিত। তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না। তারা ভিক্ষা করতে চায় না। তারা স্বাভাবিক ভাবে পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্বচ্ছলভাবে বাঁচতে চায়।

0