প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উচ্চাভিলাসেই অপরাধে জড়ান মামুনুল’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাবিলাসিতা থেকেই নাশকতাসহ অপরাধে জড়ান কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা থাকার প্রাথমিক তথ্যও পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মামুনুল হকের রিমান্ড ইস্যুতে রোববার (৬ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম।

এসপির ভাষ্য ‘মামুনুলের কর্মকান্ড ও পাওয়া তথ্য গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা যাবে।’

পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ২৮ মার্চ দেশবাপী কথিত হরতালের নামে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নাশকতার ঘটনা ঘটে। এরআগে ২৫ মার্চ মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জে আসেন। তার উসকানীমূলক বক্তব্য নাশকতায় সাহস যুগিয়েছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। সহিংসতার ৩ দিন পর ৩১ মার্চও নারায়ণগঞ্জে এসে ছিলেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগের মহাসচিব।

পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম আরও বলেন, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ঝর্ণা নামের একজন নারীসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করলে সেখান থেকে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে ওই নারী সোনারগাঁ থানায় এসে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কোন বৈধ কাগজপত্র বা তথ্য প্রমান দিতে পারেননি। শরিয়ত মোতাবেক বা দেশের আইনী কাঠামো অনুসারে বিয়ের কোন তথ্য প্রমান দিতে পারেনি সে।

এসব ঘটনায় দায়েরকৃত ৬টি মামলায় ৩ দিন করে মোট ১৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথমে ৩টি মামলায় জেলা পুলিশ, পরবর্তিতে দুটি সিআইডি ও একটি মামলায় পিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

১৮ দিন রিমান্ডে থাকা হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগের মহাসচিব মামুনুল হক পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এসব কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে টাকা আসতো বলেও আমরা তথ্য পেয়েছি। বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা থাকার প্রাথমিক তথ্য আমরা পেয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন বা আত্মসাত করেছেন বলে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। রিমান্ডে মামুনুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিন তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা যাবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই এর পুলিশ সুপার মনিরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘এ’ সার্কেল)মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকীসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0