ফকির নীটে আন্দোলনরত ১৮ শ্রমিকের জামিন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফকির নীটওয়্যার লিমিটেড এর মামলায় জামিন পেয়েছে ১৮ জন শ্রমিক।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের মে মাসে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন দমানোর অপকৌশল নিয়ে ১২০ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় এবং ১৯ মে অজ্ঞাত নামা ১৫০ থেকে ২ শতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে কারখানা ভাংচুর ও কর্মকর্তাদেরকে মারধরের অভিযোগ তুলে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
ফতুল্লা থানা মামলা নাম্বার ১১ (৫) ২০২০। টানা ২ মাসের আন্দোলনে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মধ্যস্ততায় বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনাদী পরিশোধ করে দেয়। এক’ই সাথে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু পরবর্তীকালে কর্তৃপক্ষ সেই কথা রাখেনি।

ফলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ৯৮ জন শ্রমিকের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশীট প্রেরণ করে। আদালত শ্রমিকদের নামে ওয়ারেন্ট জারি করলে পুলিশ শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে শ্রমিকরা ২৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘খ’ অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে ১৮ জন শ্রমিক স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। আসামীদের পক্ষে আদালতে জামিন শুনানি করেন এড. মুকুল ঘোষ। মামলা তদারকি করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের পক্ষে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম বাবুল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মামলা-হামলা গ্রেফতার হয়রানি করে শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। শ্রমিকরা যে মজুরি পায় সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলছে না। সারাদেশের শ্রমিকরা দাবি তুলেছে তাদের মজুরি বাড়িয়ে নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করতে হবে কিন্তু সরকার তা কর্ণপাত করছে না। ফলে শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে। সেই ক্ষোভ রাজপথে বিক্ষোভে রুপনিলে সামল দেয়া যাবে না। কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি বোর্ড পূর্ণগঠন করে নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করা ও সকল কারখানায় শ্রমিকদের আইনি অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ সরকার প্রতি জোর দাবি জানান।

জামিন প্রাপ্ত শ্রমিকরা হলেন- ইউছুব আলী, দেলোয়ার, নূরনবী, মোস্তফা, আশিকুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, সুজন, লিয়াকত আকন্দ, আনিসুর রহমান, রিপন, আঃ বারেক, মজনু শেখ, আজাদুল, আব্দুল বারী, রকিবর, এবাদুল, হাফিজুল ইসলাম, শাকিল।