ফতুল্লার সেই স্কুল ছাত্রকে ১৩ সহপাঠী মিলে খুন করে!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সহপাঠির জন্মদিনের গিফট কিনার কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়; এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয় কুপিয়ে হত্যা।

ধ্রুব চন্দ্র দাস নামের ১০ শ্রেণির ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় বুধবার এমন অভিযোগ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তুলেন বাবা মাধব চন্দ্র দাস। অভিযুক্তরা সকলেই ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোর ও তরুণ।

মামলায় আসামিরা হলো- ফতুল্লা থানার ইসদাইর বাজার এলাকার মিঠুর ছেলে ইয়াসিন (১৬), ইসদাইর উকিলের বাড়ির লিটন দাসের ছেলে পিয়াশ দাস (১৬), বলয় চন্দ্র রায়ের ছেলে রিপন (১৭), উজ্জ্বল চন্দ্র দাসের ছেলে রুদ্র চন্দ্র দাস (১৬), বিমল চন্দ্র শিলের ছেলে অন্তু চন্দ্র শীল (১৬), শ্যামল চন্দ্র দাসের ছেলে জয় চন্দ্র দাস (১৭), প্রান্তোষের ছেলে প্রভাত (১৬), একই এলাকার তুহিন (২১), ফয়সাল (২১) ও হিমেল (১৯)।

এছাড়াও অজ্ঞাত করা হয়েছে আরও ২ থেকে ৩ জনকে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদীর একমাত্র ছেলে ধ্রুব চন্দ্র দাস (১৬) ফতুল্লা থানার ইসদাইর রাবেয়া স্কুলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র। ১৭ মে সন্ধ্যার সময় বাদীর ছেলে নিজ বাসায় বসে লেখাপাড়া করছিল। রাত ৮ টার দিকে ছেলের সহপাঠী রিপন ও রুদ্র চন্দ্র দাস বাসায় এসে তাদের অপর এক সহপাঠী জন্মদিনের গিফট কেনার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে বের করে। রাত সাড়ে আটটার দিকে রাবেয়া স্কুলের সামনে রাস্তায় পৌঁছালে নিহতের সহপাঠী শ্রী রিপন ও রুদ্র চন্দ্র দাস ও অভিযুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন হাতে ছোড়া চাকু, সুইচ গিয়ার চাকু, লোহার পাইপ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধ্রুবকে মারপিট করতে থাকে। এমন সময় অভিযুক্ত ইয়াসীন তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ধ্রুবকে ছুরিকাঘাত করে। ফলে রাস্তায় পড়ে যায় ধ্রুব। সংবাদ পেয়ে বাদীর ছোট ভাই মিঠুন চন্দ্র দাস ও তুষার তাকে রক্তাক্তবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) কর্তব্যরত চিকিৎসক ধ্রুবকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বাদীসহ স্বজনেরা ধ্রুবকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সোয়া দশটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনার পরপরই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ইয়াসীন, পিয়াস দাস, অন্ত চন্দ্র শীল, রিপন, জয় চন্দ্র দাস ও রুদ্র চন্দ্র দাস।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিয়াজুল হক দিপু জানান, নিহত স্কুল ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ এজাহারনামীয় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।