ফতুল্লায় মসজিদে মসজিদে পুলিশের ভিন্ন ধরনের তৎপরতা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পুলিশের তৎপরতার কথা উঠলেই চোখে ভাসে অপরাধী ধরা, জিডি-মামলা নেওয়া, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকা—এসব দৃশ্য। কিন্তু শুক্রবার (৫ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পুলিশ চালিয়েছে ভিন্ন এক তৎপরতা। পুলিশ কর্মকর্তারা থানার বড় বড় মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের খুতবার আগে মাদক, জঙ্গিবাদ, যৌন হয়রানি, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিয়ে, জরুরি সেবা-৯৯৯, সামাজিক অনুশাসন, পারিবারিক শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে মুসল্লিদের সচেতন করেছেন।


ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা রেঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন ফতুল্লা বাজার জামে মসজিদে, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম শফিকুল ইসলাম বায়তুল আমান জামে মসজিদে, পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান মার্কাজ মসজিদে, এসআই শাহাদাৎ হোসেন মধ্যনগর জামে মসজিদে, এসআই এস এম শামীম দাপা কবরস্থান জামে মসজিদে, এসআই আশিক ইমরান পাগলা বাজার জামে মসজিদে, এসআই আবুল হাসান পঞ্চবটি মসজিদে, এসআই মিনারুল কাজী পশ্চিম মাসদাইর বায়তুন নুর জামে মসজিদে, এসআই ইমানুর হোসেন মুসলিমপাড়া মসজিদে, এসআই রওশন ফেরদৌস জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে, এসআই ফরহাদ হোসাইন রামারবাগ মসজিদে, এসআই হুমায়ূন কবির-২ পোস্ট অফিস মসজিদে বক্তব্য দেন।

ওসি আসলাম হোসেন মসজিদে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, মাদক অপরাধ জন্ম দেয়। যার মুখে মাদকের ছোঁয়া লাগে সে অপরাধী হবেই। তাই সন্ধ্যার পর সন্তানকে নিয়ে ঘরে থাকুন। এতে সমাজ থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ জঙ্গিবাদের মতো বড় অপরাধ কমে যাবে। দিনে লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি—যা কিছু করুক না কেন, সন্ধ্যার পর পরিবারের সঙ্গে থাকলে কেউ মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়াবে না। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ধরে রাখতে এবং পরিবারের মধ্যে মায়া-মমতার বন্ধন তৈরি করতে অভিভাবকদের অযথা চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া কমাতে হবে। এতে অর্থের অপচয় কমে যাবে।

ওসি আরো বলেন, ‘ফতুল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এখন নেই। কারণ এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করে উচ্ছৃঙ্খল কিশোরদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে দূরত্ব আর সামাজিক অবক্ষয়ের কথা। অন্যান্য অধিকাংশ অপরাধও একই সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এ জন্য সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্ধ্যা হলেই পরিবারের সবাইকে ঘরে ডেকে আনতে হবে। পারিবারিক সুখ, শান্তির বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।’

0