বন্দর আ.লীগ নেতার দা‌বি ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত উদযাপন কমিটিতে রাজাকার পুত্র’

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের গুরু হিসেবে পরিচিত মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সর্বমহলেই তার বেশ সুনাম রয়েছে, একইসাথে তার হাত ধরে বহু নেতাকর্মীর সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এবার সেই গুরু এমনই এক নেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে গিয়েছেন, যার বাবাকে এলাকাবাসী রাজাকার হিসেবে চিনেন। এনিয়ে তৃণমূলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনারও। অনেকেই বলছেন, তার মতো এত বড় নেতার দ্বারা এমন কাজ আমাদের দলের জন্য লজ্জাজনক।

গত ১৯ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়। মদনগঞ্জ বটতলার মোড়ে অনুষ্ঠিত সেই আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন, ১৯ নং ওয়ার্ড বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীন জসু। আর সেই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হয়ে কিভাবে রাজাকারের সন্তানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেতে পারেন? এবং কিভাবে বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পদ পেলো ওই ব্যক্তি? এরকমই প্রশ্ন যখন জনমনে বিরাজ করছে, সেই প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটি বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেগুলো গঠন করা হচ্ছে সেগুলো আমরাই অনুমোদন দিচ্ছি। ১৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জসু রাজাকার পুত্র এটা আমার জানার কথা না, জানি না। সে অনেকদিন যাবত আওয়ামী লীগ করে। বহু আগে থেকেই সে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের নেতা। ১৫ থেকে ২০ বছর যাবত সে আওয়ামী লীগের মেম্বার এবং থানা কমিটিরও সদস্য। সে যখন রশীদ সাহেব প্রেডিডেন্ট, আবেদ হোসেন সেক্রেটারি সেই আমল থেকে সে থানা আওয়ামী লীগে, এতে যাচাই বাছাই কি করবো আমরা? সেই প্রেক্ষিতেই তাদের অন্তভুক্ত করা হয়েছে’।

এ বিষয়ে ওই অনুষ্ঠানের সভাপতি ১৯ নং ওয়ার্ড বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জসীম উদ্দীন জসু বলেন,‘এগুলো মিছা কথা বানোয়াট। আমি এর আগেও পত্রিকায় এর জন্য প্রতিবাদ করেছি। আমার বিরুদ্ধে এক‌টি মহল এ বিষয় নিয়ে বল‌ছে। আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। আমার বাড়ির পাশাপাশিই উনারাই এটার মূল হোতা। এলাকায় গিয়ে দেখবেন কুতুবের বাবা রাজাকার ছিল কি না। আমার বাবা মুসলিম লীগ মাইন্ডের ছিল, বাপ দাদা আমলের বেশিরভাগ লোকই মুসলিম লীগ মাইন্ডের আছিলো। এজন্য এই না যে, রাজাকার আছিলেন’।

১৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন,‘এলাকার মানুষ তার(জসু) বাবাকে রাজাকার হিসেবেই জানে। আমি এলাকার বাসিন্দা হিসেবে তাই জানি। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী সাহেব সব জানেন’।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযুদ্ধা আইয়ুব আলী বলেন,‘ আপনার সাথে সাক্ষা‌তে কথা বলবো’।

এ বিষ‌য়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, আনোয়ার ভাই বিভিন্ন ওয়ার্ডে যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটি করেছেন তা আমার জানা নেই। এবার কাদের নিয়ে এই কমিটির অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তাও আমার জানা নেই’।

0