বন্ধ গণপরিবহন, তবুও যাবে গ্রামে…

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এবারের ইদের ছুটি মাত্র ৩ দিন, দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ, তার উপর ঘরে বসে ইদ উদযাপন করতে বলছে সরকার। এত কিছুর পরেও স্বজনদের সঙ্গে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শত প্রতিকূলতা এড়িয়ে ও অতিরিক্ত ব্যয়ে গ্রামের পথে ছুটছে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করা লোকজন।

জীবিকার তাগিদে শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার পরিবার ছেড়ে থাকতেন। সেই স্বজনদের মুখে একটু হাসি ফুটাতে স্বপ্ন পুরণের নগরীতে দিচ্ছেন শ্রম ও ঝড়াচ্ছেন ঘাম। পরিবার ও স্বজনদের সাথে ইদ উৎযাপনের আশায় মুখিয়ে ছিলেন ওই মানুষ গুলো। কিন্তু ভাগড়া বসিয়েছে করোনাভাইরাস।

করোনার সংক্রমন রোধে গত ২ ইদের মতো এবারও সরকারের পক্ষ থেকে ইদ উৎযাপনে নানা বিধিনিষেধ আর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সকল শর্তের উর্ধে ও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ইদ উদযাপনকে প্রাধান্য দিচ্ছে তারা। ফলে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করা ব্যক্তিদের স্রোত গত ২ দিন যাবত গ্রামের দিকে। শেষ মুহুর্তে যে, যে ভাবে পারছে ছুটছেন গ্রামে।

গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবহনের সন্ধানে চাষাঢ়া আর্মি মার্কেটে আসা শরিফ মিয়া জানান, সরকার কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিলেও আমাদের পরিবার পরিজন গ্রামের বাড়িতে আছে। তাই তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্যই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। কষ্ট হলেও যেতে হবে।

সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, যে যেভাবে পারছেন, গ্রামের দিকে চলে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার মানুষও যাচ্ছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ১৭ জেলায় যাচ্ছে মানুষ। কেউ মাইক্রবাসে, কেউ উঠছে ট্রাকে। মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জে চারটি অংশে মাইক্রোবাসে যাত্রী তোলা হয়। প্রতি মাইক্রোবাসে যাত্রী নেয়া হয় ১৫ জন করে। কুমিল্লা পর্যন্ত নন এসি মাইক্রোবাসে প্রতি যাত্রীর ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। লক্ষ্মীপুর সদরে ৭০০ টাকা, নোয়াখালী ও ফেনীতে ৮০০ টাকা। চট্টগ্রামে ১২০০ টাকা। এসিতে গেলে যোগ হবে এই ভাড়ার আরও দ্বিগুন। এটা সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (এডমিন) কামরুল বেগ বলেন, আমরা পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট স্থাপন করেছি। এ যাবৎ আমরা ১০ টি গাড়ি আটক করে পুলিশ লাইন্সে রেখেছি। পাশাপাশি যে গাড়ি জেলার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে যাকেই পাচ্ছি আটক করে জরিমানা করা হচ্ছে। কিছুদিন আগের তুলনায় আজ অনেকটা কম পরিমান গিাড়িই আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কাঁচপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দূরপাল্লার বাস যাতে মহাসড়ক দিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য হাইওয়ের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। রাতে যেসব দূরপাল্লার বাস যাত্রী নেয় তাদের গাড়ি আটক করা হয়।’

0