বিএনপি মানুষের পাশে না থেকে আ.লীগকে ডেমেজ করতে চাইছে: খোকন সাহা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আজকে সিলেটে বন্যা, সেখানে আমাদের দলের টিম গিয়েছে, নেত্রী গিয়েছে। সকলে গিয়ে বন্যার্তদের রক্ষায় কাজ করছে। কিন্তু বিএনপিতো এক ছটাক চাল দেয়নি, দিচ্ছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিপি আর সরকারি কর্মকর্তারা। আজকে বিএনপির বন্ধুরা অনুপস্থিত, তারা ক্ষমতার জন্য লেলা তো হয়ে গেছে, কিভাবে আওয়ামী লীগকে ডেমেজ করা যায়, সেটাই করে চলেছে। আজকে যে উন্নয়ন দেখছেন, সবই হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে।আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় এ কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

তিনি বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী। আজকে ইতিহাস বলতে হয়, নারায়ণগঞ্জে কিছু কিছু লোক একটি পরিবারের প্রতি এলাজি হয়ে, ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। অনেকে বলেন, পাইকপাড়া আওয়ামী লীগের প্রথম সভা হয়েছিল। এটা সঠিক না। ঘরোয়া সভা হয়েছিল, পাইকপাড়াতে। এর আগে জনাব খানসাহেব ওসমান আলীর বাড়ি বাইতুল আমানে অনেক গুলো সভা হয়েছে। চুড়ান্ত সভাটি হওয়ার কথা ছিল, তাঁর বাসাতেই। কিন্তু তত্বকালীন পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী, সেখানে আক্রমন করার কারণে সভাটি হয়নি। পরে সেই সভাটি হয়েছিল পাইকপাড়া মিচুয়াল ক্লাবে হয়েছিল। আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল, ঢাকার রোজগার্ডেনে। এসেই রোজগার্ডেই এখন সরকার ক্রয় করেছেন, বিশাল মিউজিয়াম করার জন্য।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. হান্নান আহম্মেদ দুলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

খোকন সাহা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এটাই ছিল বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা ঘোষণা, পরবর্তীতে টেলিগ্রামের মাধ্যমে চট্টগ্রামে হান্নান সাহেবের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হয়ে তিনি ঘোষণা পত্র পাঠ করলেন, এরপর আরও একজন করলেন। এরপর সেই ঘোষণাপত্র পাঠের জন্য জিয়াউর রহমানকে জোড় করে আনা হয়। তাহলে কি তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা হলেন, নাকি বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পাঠ করলেন। এটাই হচ্ছে ইতিহাস। এ দেশের উন্নয়ন রুখে দিতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। এরপর জিয়াউর রহমানের দুষররা খুনি রাজাকার আর আলবদরদের গাড়িতে মহান মুক্তিযোদ্ধের পতাকা তুলে দিলেন। নানা চড়াই-উৎরাই পেরি দিয়ে ১৯৯৬ সালে নেত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। ক্ষমতায় আসার পরে সারাদেশে উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হলো। কিছুদিনের মধ্যেই চক্রান্তকারিরা, সুশিল-কুশিলরা আমাদের ক্ষমতাচুত্য করলেন। ২০০১ সালের পরে বিএনপির পেটুয়া বাহিনীর হাত থেকে আমার নারী কর্মীরাও রক্ষা পায়নি। তারাও লাঞ্চিত হয়েছে। ২০১৮ সালে আবারও আমরা ক্ষমতায় আসি। এরপর এখন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। অনেকে বলে পদ্মা সেতুর কারণে ১৯টি জেলা উপকৃত হবে। কিন্তু আমি বলি সারাদেশ উপকৃত হবে। এই পদ্মা সেতু নিয়ে কত ষড়যন্ত্র হলো। ইউনুসরা প্রকাশ্যে বলে বেড়ালেন, পদ্মাসেতুতে দুর্ণীতি হয়েছে. বিশ্ব ব্যাংক টাকা দিতে গড়িমশি করলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ করতে লাগলেন। এবং শেষ পর্যন্ত হলো। আগামী ২৫ জুন সেই পদ্মা সেতু উন্মোচিত হবে।


মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম পারভেজ, দপ্তর সম্পাদক এড. বিদ্যুৎ কুমার, আওয়ামী লীগ নেতা বদিউজ্জামান বদু, মহানগর আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কবির হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মাহবুবুর রহমান চঞ্চল, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজউদ্দিন আহম্মেদ, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, বন্দর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিয়ান আহম্মেদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান খোকন, আসাদুজ্জামান খোকন, সেলিম আহম্মেদ হেনা ও আব্দুর রহিম প্রমুখ।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতারা।