বুমেড়াং আইভী সিন্ডিকেটের অপচেষ্টা, শামীম ওসমানকে ক্ষেপানো যাচ্ছেনা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘খেলা হবে, খেলা হবে’। বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমানের সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য সাড়া জাগিয়েছিলো সারাদেশে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে উপমহাদেশের সবচে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে সেই খেলা হবে শ্লোগানে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে তুলোধুনো করে হারিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জির দল। জয়ের মালা ছিনিয়ে আনা শ্লোগানটিকে খেলা হবে দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। সেইসাথে শ্লোগানের মূল প্রবক্তা শামীম ওসমানের নাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপমহাদেশে। স্থানীয় রাজনীতিতেও শামীম ওসমান মানে লাখো মানুষের মুজিবীয় সেন্টিমেন্ট। শামীম ওসমান মানে স্বাধীণতা বিরোধী চক্রের আতংক। একারণে শামীম ওসমানকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলাও নতুন কিছু নয়। রাজনীতির অশনি সংকেত আগে থেকে আঁচ করতে পারেন। সতর্কবার্তা দেন। এসব কারণে দলের ভেতরে-বাইরে একটি অংশ তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে রাত-দিন শ্রম দিয়ে যায়। কোনভাবে যদি শামীম ওসামানের কাছ থেকে ভুল সিদ্ধান্ত বের করে আনা যায়, তাহলে ফায়দা আর ফায়দা!

ওই গ্রুপটি তারই ধারাবাহিকতায় শামীম ওসমানকে ক্ষেপাতে একের পর এক নানান তৎপরতা চালচ্ছে সম্প্রতি। পুরোনো-নতুন ইস্যুতে শামীম ওসমানকে টার্গেট করে চলছে রাজনীতির নোংরা খেলা। সেইসাথে অভিযোগ আছে ইতিহাস বিকৃতির। আঘাত হানা হচ্ছে পারিবারিক অনুভূতিতে। অপবাদ দেয়া হচ্ছে- শামীম বলয়ের ঘনিষ্ঠজনদের।   তবুও ক্ষেপানো যাচ্ছেনা শামীম ওসমানকে, অসীম ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। যেন, ‘মাতৃতুল্য প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ আদরের সন্তানের মতো অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন- শত্রæর বিষ হজম করো, মানুষের সেবা করো, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করো’।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, বিগত সময়ের মতো সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শামীম ওসমানকে ক্ষেপাতে তৎপর রয়েছে দলের ভেতরের ও বাইরের একটি অংশ। পিতা-মাতা-ভাইসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে শ্মশানের মাটিতে ঢেকে দিয়ে সেই তৎপরতা শুরু করে। শামীম ওসমান সেদিন কাউকে দায়ী না করলেও মেয়র আইভী স্ব-উদ্যোগে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টিকে উসকে দেন। এ ঘটনায় মিথ্যাচার করে উল্টো দায়ী করেন প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমানকে। পরে পারভীন ওসমান এনিয়ে বিবৃতি দিলে মুখোশ খুলে যায় আইভীর। শামী ওসমান কাউকে দায়ি করেনি, কারো বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। যদিও একটি পক্ষ চেয়েছিলো- ‘শামীম ওসমানের মুখ দিয়ে আইভীর নাম উচ্চারণ হউক’।

রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দূর্ণীতি-অনিয়ম স্বেচ্ছাচারীতা, নানসেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী, যানজট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা, মশা, বায়ু দুষণ, শব্দ দুষণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সমস্যাসহ নগরবাসীর মৌলিক অধিকার নিয়ে স্থানীয় মিডিয়ায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনদূর্ভোগসহ মেয়র আইভীর ক্ষমতার ১৮ বছরে নগরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তী নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বেরিয়ে আসছে একের পর এক থলের বেড়াল। কয়েক কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ী থেকে শুরু করে ১৮ বছরের অনিয়ম দূর্ণীতির চিত্র নিয়ে গোটা নগরীতে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন নগরবাসীর ভাবনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সেই পুরানো খেলায় মেতে উঠেছে মেয়র আইভী ও তার চেলা চামুন্ডারা। বিগত সময়ে শামীম ওসমানকে টার্গেট করে নানা বক্তব্য ও মিথ্য্চাার করে যেভাবে বিএনপি-জামায়াত ও দলের অভ্যন্তরে বিরোধীদের সহানুভূতি আদায় করা হয়েছিলো, ঠিক তেমনি এবারও সেই শামীম ওসমানকে টার্গেট করে ফের শুরু হয়েছে নানা তৎপরতা। তাকে ক্ষেপাতে নানা কল্পকাহিনী থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠদেরএমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়েও চলছে অপপ্রচার ও আজগুবি কথাবার্তা। যদিও এসব খেলা পুরানো হওয়ায় নগরবাসীর আর বুঝতে বাকী নেই। তারপরও বিরোধী পক্ষের টার্গেট শামীম ওসমানকে ক্ষেপানো।

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে চাষাড়া-খানপুর-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ককে (আর ১১৫) ভাষা সৈনিক “বেগম নাগিনা জোহা সড়ক” , সাইন বোর্ড চেইনেজ আঞ্চলিক মহা সড়কটি স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত (মরনোত্তর) “ভাষা সৈনিক এ.কে.এম সামসুজ্জোহা সড়ক” ও নির্মাণাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘এ.কে.এম নাসিম ওসমান সেতু’ নামে নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারী করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. গোলাম জিলানী।

প্রজ্ঞাপন জারির পর দেশ ও জেলার বিভিন্ন সংগঠন-ব্যাক্তিরা যখন অভিনন্দন জানিয়েছে, তখন ওই চক্রটি ওসমান পরিবারের সেই প্রয়াত ব্যাক্তিদের নিয়েই নেতিবাচক মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, তারা সরকার ও মন্ত্রীদেও বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন- ‘সরকারের কতিপয় মন্ত্রী ও আমলারা টাকা খেয়ে এই নারায়ণগঞ্জের রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা বিভিন্ন জনের নামে নামকরণ করেছে’।

সম্প্রতি শামীম ওসমানের শ্যালক যিনি আপন মহিমায় ও সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে ক্রিড়া ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন সেই ক্লিন ইমেজের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর আহমেদ টিটুকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

পাশা-পাশি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের প্রাণপ্রিয় মানুষ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে নিয়েও নানা কল্পকাহিনী প্রচার করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের জন্ম ও ইতিহাসের সবচে আলোচিত বাড়ী ‘বায়তুল আমান’ নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যমূলক মিথ্যচার করেছেন।

মেয়র আইভী নিজে ফুটপাতের চাঁদাবাজখ্যাত জনৈক জামির হোসেন রনিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর শীতলক্ষায় একটি অনুষ্ঠানে ২০০১ সালের ভয়াবহ বোমা হামলা নিয়ে চরম মিথ্যাচার করেছেন মেয়র আইভী। জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সাইদুল হাসান বাপ্পীর বোমা হামলায় নিহতের ঘটনা নিয়েও করেছেন মিথ্যচার। কেননা সেসময় মেয়র আইভী ছিলেন সূদুর নিউজিল্যান্ড। ২০০১ সালের ১৬ জুনের বোমা হামলা কারা কি কারণে চালিয়েছিলো তা দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সকলেই অবগত। সেই ভয়াবহ বোমা হামলার উদ্দেশ্যই ছিলো শামীম ওসমানকে হত্যা করা। নারায়ণগঞ্জের বোমা হামলায় নেতৃত্ব দেয়া দুই ভাই মোস্তাকিন ও মুত্তাকিন  ভারতে গ্রেফতার হয়ে বোমা হামলার কথা স্বীকার করেছে। সেই প্রমানিত বোমা হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মিথ্যচার করেছেন মেয়র আইভী।  আর এসবই করছেন শামীম ওসমানকে ক্ষেপাতে। শামীম ওসমান ক্ষেপলে আইভীর লাভ। কেননা আওয়ামী লীগ মনোনয়ন না দিলে বিএনপি জামায়াত ও সরকার বিরোধীদের সহানুভূতি নিয়ে ২০১১ সালের মতো নির্বাচনে জয়লাভের টার্গেট করেই এগুচ্ছেন আইভী। তবে কোন ভাবেই ক্ষেপানো যাচ্ছেনা শামীম ওসমানকে। শামীম ওসমানকে রাগাতে না পেওে নিজেরাই যেন হতাশায় ক্ষুব্দ। অসীম ধৈর্য্যে ‘শামীম বন্দনা’ গোটা জেলা জুড়ে। তাই সব অপচেষ্টা বুমেড়াং হতে যাচ্ছে বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের তৃনমূল নেতা-কর্মীরা।

0