বোমা হামলার ২০ বছর: শ্রদ্ধা জানাতে এসে হতবাক স্বজনরা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দেশের অন্যতম বর্বরোচিত বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই হামলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছিল আরডিএক্স। ভয়াবহ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ২০টি তাজা প্রাণ ঝড়ে পড়েছিল সেদিন।


বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তৎকালীন ও বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। দু-পা উড়ে গিয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল এবং স্বেচ্ছাসেবকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন দাসের।

আজ ১৬ জুন (বুধবার) সকালে প্রতি বছরের মতো পুষ্পস্তবক নিয়ে বোমা হামলাস্থলের স্মৃতিস্তম্ভে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শহীদ মিনারের গেটের সামনে জড়ো হন চাষাড়া বোমা হামলার ঘটনায় আহত চন্দন শীল, রতন দাসসহ আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

এসেই তারা হতবাক। গেট ছিল তালাবদ্ধ। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সকলের মাঝে। অবশেষে গেট ভেঙে ঢুকে স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।

শুধু তাই নয়, পুষ্পস্তবক দিতে গিয়ে দেখেন ২০ শহীদের তাজা রক্ত যেখানে ঝরেছিল সেই স্মৃতিস্তম্ভ ঘেঁষেই সিটি করপোরেশন নির্মাণ করেছে পাবলিক টয়লেট। যা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আহত ও নিহতদের স্বজনেরা।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা বলেন, আমরা সকাল সারে ৮টার সময় শহীদ মিনারের গেটের সামনে গিয়ে দেখি মিনারের প্রত্যেকটি গেটে তালা। পরে তালা ভেঙ্গে আমরা ভিতোরে ঢুকে ফুল দিয়েছি। আমরা প্রতিবছর এই দিনে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। মেয়র কি জানতেন না এটা। আমার প্রশ্ন যে উনি কেন শহীদ মিনারের গেটে আজকের দিনেটা তালা দিলেন। আমাদের ফুল দেয়ার জন্য বাধাগ্রস্থ করলেন। মেয়রের এরোকম কর্মকান্ডের জন্য আমি তীব্র নিন্দা জানাই।  এখানে আমাদের দলের ২০ টা লোক মারা গেছে মেয়র ওই দলেরই অংশ। তাহলে কেন তিনি শহীদ মিনারে তালা দিয়ে রাখলেন। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, সে আমার দলের কিনা।

বোমা হামলায় দু পা হারানো একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে যে জায়গাটিতে বর্বরোচিত বোমা হামলা সংঘটিত হয়েছিল। সেই জায়গায় শহীদদের স্মরণে এবং আহতদের সম্মানে তৈরি হয় একটি শহীদ বেদি। প্রতি বছর এখানে হতাহতের পরিবারের বিচার প্রার্থী সদস্যরা আসেন শ্রদ্ধা জানাতে । আজও তারা এসেছেন কিন্তু প্রথমেই দেখেন শহীদ মিনার তালাবদ্ধ। ক্ষুব্ধ জনতা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এতটুকুই শেষ নয়। একেবারে শহীদ বেদি ঘেঁষে সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট। জঘন্য এই কাণ্ডে দুঃখে, কষ্টে চোখের পানি ফেলেছেন তারা। গত বছরও স্মৃতিস্তম্ভ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছিল সিটি করপোরেশন।

বোমা হামলায় দুই পা হারানো রতন কুমার দাস বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুন। ‘প্রতি সপ্তাহের শনি ও সোমবার সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সভার শেষ মুহূর্তে আমার পায়ের একটু সামনে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। চোখের সামনে আগুনের গোলা। কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। কোমরের নিচ থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। শরীর থেকে মাংস বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল ক্লাবের সামনে। বোমা হামলার সেই ভয়াবহ দিনে যারা স্মৃতিস্তম্ভে তালা দেয়, পাশে পাবলিক টয়লেট বানায়, তারা আর যাই হোক সুস্থ মানসিকতার রাজনীতিক বা জনপ্রতিনিধি হতে পারে না।

এ ব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। আমি তখন ছিলাম না। আর পাবলিক টয়লেট বানানোর সময়ও আমি ছিলাম না।

0