ভাড়া নিয়ে ছয়তলা ভবন ‘দখল’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একটি ছয়তলা ভবন (দ্বিতীয় তলা থেকে ছয় তলা পর্যন্ত) ভাড়া নিয়েছেন তিনি। প্রথম দিকে ভাড়া দিলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ করে দেন। মালিক ভবন ছাড়তে বললে তাঁকে ভয়ভীতি দেখান, দিয়েছেন মিথ্যা মামলা।

এখন ভবনের সামনে গেলেই দিচ্ছেন হত্যার হুমকিও।

ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরীর একটি প্লটে অবস্থিত ছয়তলা ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে মো. এহছানুল আমিন রোমানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত রোমান কে.আর নীটওয়ারের পরিচালক ও বন্দরের উইলসন রোডের মৃত. মো. শওকত আলীর ছেলে।

ভবনের মালিকের অভিযোগ, মো. এহছানুল আমিন ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ১২৬ টাকা পরিশোধ করেননি। অথচ, এখনো ভবন দখল করে আছেন।

কে.আর নীটওয়ারের সাবেক অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ‘তাদের বকেয়া বেতন ও পরিশোধ করেনি মো. এহছানুল আমিন ওরফে রোমান।’

হোসিয়ারি শিল্পের বিকাশের জন্য ১৯৮২ সালে ফতুল্লার এনায়েতনগরে প্রতিষ্ঠিত হয় বিসিক। সেখানেই বি-৪৩৫ নম্বরের প্লটটি বরাদ্দ পান উকিলপাড়ায় ‘নিউ আমির হোসিয়ারী’র মালিক মো. আমির হোসেন। তৈরি করেন ৬ তলা ভবন। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয় গার্মেন্টস মালিকরা বিসিক হোসিয়ারী শিল্প নগরী ব্যবহার করবে। তখন মিজান নামের এক ব্যক্তির কাছে ভবনটি ভাড়া দেন আমির। কয়েক বছর পরিচালনার পর ভবনটি ছেড়ে দেন সে। এরপর ভাড়া দেওয়া হয় মো. এহসানুল আমির নামের ব্যক্তির কাছে। তিনি পরিচালনা করেন কে.আর নিটওয়্যার লিমিটেড।

ভবন মালিক আমির হোসেন বলেন, ‘প্রথম দিকে ভাড়া দিলেও একপর্যায়ে বন্ধ করে দেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২০ মাসের ভবন ভাড়া বাবদ ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওনা হন আর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া বাবদ পাওনা হন ১০ লাখ ৬০ হাজার ১৬৫ টাকা। বকেয়া টাকা না দেওয়ায় সেই বছরের ২ ডিসেম্বর ‘পাওনা বকেয়া ভাড়ার টাকা আদায় ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ প্রসঙ্গে’ বিসিক শিল্প মালিক সমিতির কাছে দরখাস্ত করেন আমির হোসেন। ২০ ডিসেম্বর মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জামানত থেকে ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। রাকি রাখেন ভাড়ার ২০ হাজার টাকা। সেই টাকা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ভবন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু এরপর থেকে প্রতিমাসেই সময় চেয়ে নিয়েছেন, এমন করে ২০ মাসের অধিক সময় চলে গেছে, সাথে বেড়েছে প্রতি মাসের ভাড়া। এখন আবারও ২৬ লাখ টাকা ভাড়া জমে গেছে। ২০২২ সালের ২২ ও ২৩ আগস্ট বসে সিদ্ধান্ত হয়, ৩১ আগস্টের মধ্যে ভাড়াটিয়া তার সকল মেশিন বিক্রি করে ফ্লোর খালি করে দিবে।

আমির হোসেন আরও বলেন, ‘এখন বকেয়া টাকা পরিশোধ করে ফ্লোর ছাড়তে বললে ভাড়াটিয়া মো. এহসানুল আমিন উল্টো গালিগালাজ করছে ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। সম্প্রতি একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছেন।’

এ ঘটনার পর আমির হোসেন আবারও বিসিক শিল্প মালিক সমবায় সমিতি লি: হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর মালিক সমিতির প্রতিনিধি, বিল্ডিং এর মালিক ও ভাড়াটিয়া রোমানের উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কিছু মেশিন বিক্রি করে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য হস্তান্তর করেন।

তবে, ফতুল্লা বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা বহুবার মো. এহসানুল আমিনের সাথে বসেছি। ভাড়া চাইতে গেলে ‘দেব’, ‘দিচ্ছি’ বলে টালবাহানা করতেন। পরবর্তীতে আমাদের কাছে ‘এক মাস পর ছেড়ে দিবে’ এমন অঙ্গিকার করেও বারবার তিনি এখনও ভবনটি ছাড়েনি। তাঁর টাকার সমস্যার কারণে আমি বিকেএমইএ‘র নির্বাহী সদস্য হিসেবে রোমানকে ডেকে এনে বিকেএমইএ‘র কিছু সংখ্যক সদস্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশী অনুদানের ফান্ড থেকে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করে দেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য। কিন্তু দু:খের বিষয়, সে টাকা উত্তোলন করলেও বিল পরিশোধ করেনি। এখন আবার মিথ্যা গল্প সাজিয়ে বিল্ডিং মালিক এর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বিগত ২ বছরে তাঁর মানষিক অত্যাচারে ভবনের মালিক যেমন অতিষ্ট বিরক্ত, তেমনই মালিক সমিতিও অতিষ্ট-বিরক্ত।’

অভিযুক্ত এহসানুল আমিন রোমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের পরেও পাওয়া যায়নি।