ভয়ংকর নূর হোসেনের সাম্রাজ্যের নতুন সম্রাট নূর আলম

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপকথাকেও হার মানানো নূর হোসেন৷ প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বাসের হেলপার। সেই হেলপার থেকে চেয়ারম্যান, এরপর নারায়ণগঞ্জে হয়ে উঠে ছিলেন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তার এখানে নীতি ও আদর্শের বালাই ছিল না৷ ছিল শুধু অর্থের ভাগ–বাঁটোয়ারা ও অপরাধের অংশীদারি৷ সাত খুনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্যে নূর হোসেনের পতন ঘটেছে। তবে, সেই সাম্রাজ্যে নতুন রাজা নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলম।

যার রয়েছে অস্ত্রেশস্ত্রে সুসজ্জিত বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই বাহিনীর কাজ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ নিজেদের পুরনো কর্মযজ্ঞ ফিরিয়ে আনা।

সেই ‘নূর হোসেনের সাম্রাজ্যের নতুন সম্রাট নূর আলম’র অবস্থান কয়েক পর্বের প্রতিবেদন নিয়ে তুলে ধরা হ‌বে। আজ তারই প্রথম পর্ব।

নূর হোসেনের অবস্থা‌নে নতুন রূপ ‘নূর আলম’

মাত্র ৩৭ বছর বয়স নূর হোসেনের শ্যালক নূর আলমের। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে বনে গেছেন শত শতক শতাংশ জমির মালিক। রয়েছে সিএনজি পাম্পে গ্যাসের ব্যবসাসহ কোটি কোটি টাকা। গড়ে তুলেছেন অস্ত্রেশস্ত্রে সুসজ্জিত বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। তার এই বাহিনী দ্বারা সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। এই বাহিনীর সদস্যরা চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী রাহাজানি ও দখলবাজিসহ মাদকের ব্যবসা চালাতেন। এখন নূর আলমের বড় মাহাবুব খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে কাঁচপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, নূর হোসেনের পথেই হাটছেন শ্যালক নূর আলম ও মাহাবুব খান। তাকে এখনই না ঠেকানো গেলে প্রশাসনের পক্ষ তা‌কে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

নূরে আলমের বিরুদ্ধে অপহরণের পর গুমের মামলা:
২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়দানকারী দুর্বৃত্তরা ইসমাইল হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকে অপহরণ করে। পরে র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও সাঈদ তারেক মুক্তিপণ হিসেবে ২ কোটি টাকা দাবি করেন। এরপর থেকে আজও পর্যন্ত হদিস মিলেনে ইসমাইল হোসেনের। বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে (?) তার কিছু জানেন না তার পরিবার।
এ ঘটনায় নূর হোসেনের শ্যালক নূর আলম খান, র‌্যাবের সাবেক কয়েকজন অফিসারসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলাটি তুলে নিতে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছিলেন নূর হোসেনের শ্যালক সন্ত্রাসী নূর আলম।

এ ব্যাপারে জোছনা বেগম সম্প্রতি বলেছেন, হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি সন্ত্রাসীরা। এর পর থেকে বাড়ির আশেপাশে নিয়মিতই নূর আলমের সন্ত্রাসী বাহিনী মহড়া দিয়েছে। এতে আমি আতঙ্কিত। ছেলেকেও তারা অপহরণ করতে পারে। চোখের পাতা এক করতে পারি না ভয়ে। তাই উপায়ন্ত না পেয়ে পুলিশ সুপারের (হারুন অর রশিদ) কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু বিচার পাইনি।

নূর আলম

নূর হোসেনের অস্ত্র নূর আলমের কাছে
রাজধানীর মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেট কার থেকে পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতা নূরে আলম খানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানায় (জিআরপি) অপারেশন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের নামে থাকা দুটি পিস্তলের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হলেও তা তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জমা দেননি। এর একটি পিস্তল ব্যবহার করছিলেন ছাত্রলীগের নেতা নূরে আলম।

সম্প্র‌তি মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক দণ্ড ফেলা হলেও বিপরীত দিক থেকে একটি প্রাইভেট কার রেললাইনে উঠে বিকল হয়ে যায়। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হন। পরে জিআরপি থানার পুলিশ কার থেকে ২০টি গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। ওই দিন গাড়িচালককে আসামি করে ঢাকা জিআরপি থানায় মামলা করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত একজনকে শনাক্ত করা হলেও চালকসহ অন্য দুজন পলাতক।

অস্ত্রসহ নূর আলমের সহযোগী গ্রেপ্তার
সম্প্রতি নুর আলম খানের অন্যতম সহযোগী টাইগার মোমেন ও মো. বুলবুল ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ম্যাগাজিন ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল, দু’রাউন্ড তাজা গুলি, ২শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এক লিটার চোলাই মদ, মাদক বিক্রয়ের নগদ ১০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা করা হয়। টাইগার মোমেন নূর হোসেনের শ্যালক নুর আলম খানের শেল্টারে কাঁচপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা, তেলচুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ সব অভিযোগ নিয়ে নূর আলম খান বলেন, ‘ইসমাইল অপহরণের ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে সাধারণ একটি অভিযোগ ছিল। আর অস্ত্র আইনের মামলাটিও সেটা অনেক আগেই শেষ।’

0