মনোনয়ন বঞ্চিতদের আইভী ‘একসাথে কাজ করতে চাই’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষথেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রীকে। এবং আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জের জনতাই আমার প্রধান শক্তির উৎস। দল ও জনতা আমাকে উৎসাহ দিয়ে পাশে ছিলেন বলেই, আমি বিভিন্ন সময় কোন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করি নাই। সাধারণ মানুষ ও দল আমাকে সব সময়ে সমর্থন দিয়েছেন। হৃদয়ের স্পন্দন বুঝতে পেরেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে ও সিটি বাসীকে নৌক উপহার দিয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা প্রচারণা করবো। আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শুরু করবো।

নৌকার মনোনয়ন পেয়ে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহরে আনন্দ মিছিল করে, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আইভী বলেন, একই দলের থেকে আমিসহ আরও কয়েকজন নেতা মনোনয়ণ চেয়েছেন। হয়তো পায়নি, এতো বড় একটা দল, মনোয়নন চাইতেই পারে| তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আমরা নারায়ণগঞ্জে একসাথে কাজ করতে চাই। অতীতে যেভাবে আমার পাশে ছিলেন এবারও আপনারা আমার পাশে থাকবেন আশা করবো। আমরা সকল ধরণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নেত্রীর পাশে দাঁড়াবো। নৌকার পাশে দাঁড়ানো মানেই নেত্রীর পাশে দাঁড়ানো। নৌকার পাশে থাকা মানেই আমাকে এখন জয়যুক্ত করা। নৌকা এখন উন্নয়নের মার্কা। জনতার মার্কা। জনতার মার্কাকে আমরা জয়যুক্ত করবো ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০১১ তে যখন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। আমরা একই দলের দুইজন নির্বাচন করেছিলাম। আপনারা তখন রায় দিয়েছিলেন আইভীর পক্ষে। ২০১৬ তে প্রথম প্রতীকে নির্বাচন হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার হাতে নৌকা তুলে দেন। তখন মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আমাকে সহযোগীতা করেছিলেন ফলে আমি পাশ করেছিলাম। এবারও আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নৌকা উপহার দেব।

তিনি আরও বলেন, এই শহরের মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী জেলা। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া ক্লাবেই আওয়ামী লীগের জন্ম। পরে ঢাকার রোজ গার্ডেনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। আমি সেই ক্লাবটি সংরক্ষণ করেছি। অনেকে জানেননা ৮১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে আসলেন তখন ঢাকার বাইরে নেত্রীকে প্রথম সংবর্ধনা দিয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আহমদ চুনকা। তখন তার হাতে আওয়ামী লীগের চাবি তুলে দিয়েছিল।

আইভী বলেন, আজকে আমি সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পাশে থাকার জন্য। ২০০৩ এ যখন আমি নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসি অনেকে শহর ত্যাগ করেছিলেন। বিদেশে থেকেছেন দেশে ঢুকতে পারেনি। তখন এই আওয়ামী লীগের অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আমরা তখন জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, মো. আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, কার্যকরী সদস্য মো. শহীদুল্লাহ, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির এলিন, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি আহাম্মদ আলী রেজা রিপন, মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল হুদা বাবু, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা আব্দুল মোতালিব, শরীফ হিরা, হিমেল খান প্রমুখ।