মন্ত্রী-আমলারা টাকা খেয়ে না.গঞ্জে বিভিন্ন নামকরণ করছে: রফিউর রাব্বি

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, সরকারের মন্ত্রী-আমলারা টাকা খেয়ে নারায়ণগঞ্জের রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনার নাম করণ করছে। যে সব মন্ত্রী-আমলারা এ নাম করণ করছেন তাদের কাছে জানতে চাই, যাদের নামে এ নাম করণ করা হয়েছে, দয়া করে আপনারা নারায়ণগঞ্জে বা দেশে তাদের অবদানটা কী তা আমাদের জানান। খুন-খারাবি, লাশ ফালানো এ সব কোন যোগ্যতার মধ্যে পরে কিনা তা আমাদের জানান। নারায়ণগঞ্জের মানুষ হিসেবে তা জানার অধিকার আমাদের আছে। ম্যান্ডেট ছাড়া সরকার বলেই জন মতের তোয়াক্কা না করে যা ইচ্ছে তাই করে চলেছে। নাম করণ নিয়ে সরকার দেশে যা করছে, বিশ্বের কোথাও এমন নির্লজ্জ নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মঙ্গলবার (৮ জুন) আলোচিত ত্বকী হত্যার ৯৯ মাস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন চত্বরে আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিউর রাব্বি বলেন, আট বছরের পেরিয়ে গেলেও ত্বকী হত্যার বিচার এখনো শুরু হয় নাই। এ দায় যতটানা বিচার ব্যবস্থার তারচেয়ে বেশি সরকারের। কারণ, তদন্তে যখন ত্বকীর ঘাতক সরকার দলীয় চিহ্নিত হলো, তখনি সরকার এ বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য সরকার ত্বকী হত্যায় অঘোষিত ইন্ডেমনিটি জারি করে রেখেছে। দেশে সুশাসন, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবকিছুই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সবকিছু দলীয়করণ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জনকে ধ্বংস করেছে সরকার। বিচার-প্রক্রিয়া ও আইনের স্বভাবিক গতিকে ধ্বংস করেছে। সরকার ত্বকীর ঘাতকদের বিভিন্ন সময় পুরস্কৃত করেছে।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব, কবি, সাংবাদিক হালিম আজাদ বলেন, প্রধান মন্ত্রী বলেছেন কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন, অথচ তিনি বিচার করছেন না। একজন গডফাদার তার ভাতিজাকে নিয়ে ১১জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। গডফাদারকে রক্ষার জন্যই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এ হত্যার বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সাস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সাবেক সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, অমল আকাশ, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা কমিটির সমন্বয়ক নিখিল দাস, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা প্রমূখ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোকপ্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

0