মুন্নাকে কাছে টানতেই বোমা হামলা নিয়ে আইভীর মিথ্যাচার!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সাইদুল হাসান বাপ্পী। শহরের দক্ষিনভাগের আলোচিত এই ছাত্রনেতা ছিলেন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়। সদা হাস্যোজ্জল ও গণমানুষের সাথে মিশে সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করতে পেরেছিলেন তিনি। তৎকালীন এমপি শামীম ওসমানের একনিষ্ট কর্মী হিসেবেই পরিচিতি ছিলো তার।

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত হন তিনি। সেই বোমা হামলা কারা কি কারণে চালিয়েছিলো তা দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সকলেই অবগত। সেই ভয়াবহ বোমা হামলার উদ্দেশ্যই ছিলো শামীম ওসমানকে হত্যা করা। নারায়ণগঞ্জের বোমা হামলায় নেতৃত্ব দেয়া দুই ভাই মোস্তাকিন ও মুত্তাকিন ভারতে গ্রেফতার হয়ে বোমা হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা এও স্বীকার করেছে শামীম ওসমানকে কর্মী সমর্থকসহ হত্যার উদ্দেশ্যেই এই ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়েছিলো। কিন্তু বোমার স্পিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হলেও শামীম ওসমানপ সে যাত্রায় বেঁচে যাওয়ায় তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেও অভিযোগ, এতো বছর পর সেই ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২৬ সেপ্টেম্বর শীতলক্ষায় একটি অনুষ্ঠানে ২০০১ সালের ভয়াবহ বোমা হামলা নিয়ে চরম মিথ্যাচার করেছেন মেয়র আইভী। তিনি বলেছেন, ‘বেঁচে থাকলে সাইদুল হাসান বাপ্পী হয়তো অনেক বড়ো নেতা হতো। কিন্তু অনেকের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে সে আজ আমাদের মাঝে নেই। আইভীর এই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা চরম মিথ্যাচার হিসেবে অখ্যায়িত করে বলেছেন, জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সাইদুল হাসান বাপ্পীর বোমা হামলায় নিহতের ঘটনা নিয়েও সে মিথ্যাচার করে। অথচ সেসময় মেয়র আইভী ছিলেন সূদুর নিউজিল্যান্ড। ২০০১ সালের ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মিথ্যচার করেছেন মেয়র আইভী। এর দুটি কারণ উল্লেখ করে নেতা-কর্মীরা বলেন, এক. ২০০৩ সালে পৌরসভার নির্বাচনে বাপ্পীর ছোটভাই কামরুল হাসান মুন্না কাউন্সিলর ছিলেন। সেসময় তার সাথে আইভীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যাপক আলোচিত ছিলো। পরবর্তিতে মুন্না ওসমান বলয়ে চলে যাওয়ায় তার বিপক্ষে কবির হোসেনকে প্রতিষ্ঠিত করেন মেয়র আইভী। ঐ সভায় মেয়র আইভী বলেছেন, কবির কাকার জন্য ভোট চাইতে আসিনি। একথা বলে সে মুলত মুন্নাকে নিজের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছেন। দুই. আইভী যখন পৌরসভার চেয়ারম্যান হন তখন বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায়। চাষাড়া বোমা হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকারদলীয়রা স্প্রীন্টারে ক্ষতবিক্ষত শামীম ওসমানকে প্রধাণ আসামী করে বোমা হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, শামীম ওসমান নিজেই এই বোমা হামলা ঘটিয়েছেন। সেই একই সূরে আওয়ামী লীগের মেয়র আইভীও একথাটি বলতে চেয়েছেন তার বক্তব্যে। যা কিনা আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতি হলেও বিএনপি-জামায়াত ও সরকার বিরোধীদের কাছে যাওয়ার একটি মাধ্যম।

0